'সরকারিকৃত কলেজের সব শিক্ষক-কর্মচারীকে আত্তীকরণের দাবি'

সরকারিকৃত কলেজের কোন শিক্ষক কর্মচারীকে বঞ্চিত না করে সবাইকে আত্তীকরণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। কাউকে বঞ্চিত না করে কলেজের বেসরকারি আমলে কর্মরত সব শিক্ষক-কর্মচারীকে স্ব গ্রেডে আর্থিক সুরক্ষা বা পে প্রটেকশন বহাল রেখে দ্রুত আত্তীকরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। শিক্ষকদের অভিযোগ, বেশির ভাগ শিক্ষকের নামের পাশে অযাচিত নোট দিয়ে তাদের আত্তীকরণ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখছেন কয়েকজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। এসব শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের আত্তীকরণের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার দাবি জানিয়েছেন সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষকরা।
শুক্রবার সকালে নগরীর ফকিরবাড়ি রোডের শিক্ষক ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ (বাসকশিপ) বরিশাল অঞ্চলের উদ্যোগে এ সভা আয়োজন করা হয়। সংগঠনের বরিশাল অঞ্চলের সভাপতি শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুলাদি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো দেলোয়ার হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের (বাসকশিপ) সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন। আলোচনায় বক্তারা সরকারিকৃত কলেজগুলোর পরিদর্শন রিপোর্টের ভিত্তিতে বেসরকারি আমলে কর্মরত কোন শিক্ষক-কর্মচারীকে বঞ্চিত না করে সবাইকে দ্রুত আত্তীকরন ও স্ব-গ্রেডে আর্থিক সূরক্ষা (পে প্রটেকশন) বহাল রেখে আত্তীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান। সভায় অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কম খরচে পড়াশোনা নিশ্চিত করতে ৩০৪টি কলেজ সরকারিকরণ করেছেন।
সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন মৃধা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্কুল-কলেজ সরকারিকরণের ঐতিহাসিক ঘোষণার পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত একটি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণ ও অ্যাডহক নিয়োগের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। ইতোমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সরকারিকরণের সুযোগ-সুবিধা ভোগ না করেই শূন্য হাতে অবসরে চলে গেছেন, যা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি অবিলম্বে পরিদর্শন রিপোর্টের ভিত্তিতে সব শিক্ষক কর্মচারীকে আত্তীকরণের দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, অন্যথায় দাবি আদায়ে শিক্ষকেরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে পদ-সৃজনের কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চললেও এসব কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বেশিরভাগ শিক্ষকের নামের পাশে অযাচিত নোট দিয়ে তাদেরকে আত্তীকরণ প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে প্রধানমন্ত্রীর সরকারিকরণের মহান উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। এ অবস্থা কিছুতেই কাম্য নয়। সেই মামলাবাজ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের আত্তীকরণের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার দাবি জানান বক্তারা। সভায় শিক্ষক নেতারা কয়েক দফা দাবি জানান। এগুলো হলো, সরকারিকৃত কলেজগুলোর পরিদর্শন রিপোর্টের ভিত্তিতে বেসরকারি আমলে কর্মরত কোন শিক্ষক-কর্মচারীকে বঞ্চিত না করে সবাইকে আত্তীকরণ করা, স্ব-গ্রেডে স্ব-পদে আর্থিক সুরক্ষা (পে প্রটেকশন) বহাল রেখে সবাইকে আত্তীকরণের ব্যবস্থা করা, জিও জারির তারিখে (২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ৮ আগস্ট) যারা কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে বয়স ৫৯ বছর অতিক্রম করেছেন তাদের ভুতাপেক্ষ আত্তীকরণ করা, ২০১৮ বিধিমালা সংশোধন ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উপবিধি প্রণয়নের কাজ জরুরি ভিত্তিতে শুরু করা এবং উপবিধি প্রণয়ন কমিটিতে সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষকদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা এবং যোগদানের তারিখ থেকে শতভাগ চাকরিকাল গণনা করে কার্যকর চাকরিকাল নির্ধারণ এবং পদোন্নতিসহ সকল ক্ষেত্রে তা কার্যকর করার ব্যবস্থা করা। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল আলম মিঞাঁ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আ. আলিম, সহ-সভাপতি নাসির উদ্দীন, যুগ্ম সম্পাদক বারি আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক অরবিন্দ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক ফকির, অধ্যাপক আ. ছালাম হাওলাদারসহ অনেকে।
এইচকেআর