বরিশালে মাধ্যমিক ভর্তি : আবেদনের শেষ সময়ও মিলছে না জন্মসনদ

জন্মনিবন্ধন সনদের জটিলতায় মাধ্যমিক স্তরে ভর্তির আবেদন করা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে বরিশাল নগরের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। কাল বুধবার আবেদন করার শেষ সময় হলেও এখনো সিটি করপোরেশন থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে পারেননি অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক। ফলে এই শিক্ষার্থীদের ভর্তি আবেদন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ও সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০২২ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরে ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন অত্যাবশ্যকীয় করা হয়েছে। জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকলে অনলাইনে আবেদন করা যাবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করতে প্রয়োজন হচ্ছে মা-বাবার জন্মনিবন্ধনও। এ জন্য বেশ কয়েক দিন ধরে সিটি করপোরেশনে জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে।
কিন্তু সার্ভারের জটিলতায় চাহিদামতো জন্মনিবন্ধন সরবরাহ করতে পারছে না সিটি করপোরেশন। গত ১৬ নভেম্বর মাধ্যমিকে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। এ বছর স্কুল থেকে কোনো ভর্তির ফরম বিক্রি করা হবে না। ভর্তির আবেদন করতে হবে অনলাইনে। আর ভর্তি ফরমও সংগ্রহ করতে হবে অনলাইন থেকে। সিটি করপোরেশনের জন্মনিবন্ধন শাখার তথ্য অনুযায়ী, ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরপরই সিটি করপোরেশনে জন্মনিবন্ধনের আবেদনের হিড়িক পড়ে। এসব আবেদনের বিপরীতে প্রতিদিন কিছু কিছু করে সনদ দেওয়া হয়েছে। সার্ভারে জন্মনিবন্ধনের জন্য তথ্য সন্নিবেশিত করতে গিয়ে বারবার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সার্ভারের জটিলতার কারণে সোমবার পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার আবেদন ঝুলে আছে। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই স্কুলে ভর্তি ইচ্ছুক ও তাদের অভিভাবক।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় স্কুলে ভর্তির জন্য সন্তানের জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন অনেক মা-বাবা। এর আগে মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েই যে কারও জন্মনিবন্ধন করা যেত। কিন্তু নতুন নিয়মে আগে মা-বাবার জন্মনিবন্ধন করতে হয়, এরপর পাওয়া যায় সন্তানের জন্মসনদ। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যাঁদের জন্ম ২০০১ সালের পর, তাঁদের জন্মনিবন্ধনের জন্য মা-বাবার জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেকে।
নগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, তিনি মেয়ের স্কুলে ভর্তির আবেদনের জন্য জন্মনিবন্ধন সনদের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে ঘুরেও তিনি পাচ্ছে না। নগরের কলেজ রোড এলাকার অভিভাবক সুরাইয়া বেগম একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান। মঙ্গলবার সকালে সিটি করপোরেশেনের জন্মনিবন্ধন শাখায় গিয়ে একাধিক ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। তাঁদের কয়েকজন জানান, জন্মসনদ নিতে এলেই বলছে সার্ভারের জটিলতা চলছে। ভর্তির আবেদনের আর মাত্র এক দিন বাকি আছে। বুধবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে জন্মসনদ না পাওয়া গেলে ভর্তির জন্য আবেদনই করতে পারবেন না তাঁরা। এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছেন।
জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা সার্ভার সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এ জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি এর সমাধান হয়ে যাবে।’
বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সোহেল মারুফ বলেন, তিনি সমস্যার কথাটি জেনেছেন। কিন্তু জন্মনিবন্ধন দেওয়া কিংবা ভর্তির আবেদনের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও তাঁদের হাতে নেই। আবেদনের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে তাঁরা মাউশির সঙ্গে কথা বলেছেন।
জানতে চাইলে মাউশি অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বিষয়টি গভীর উদ্বেগের। সিটি করপোরেশনে তিন-চার হাজার আবেদন জমা আছে। এ ক্ষেত্রে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সিটি করপোরেশনের একটি আবেদন পেয়েছেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। অন্তত আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাতে করা হয়, সেই সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন এটা বাড়বে।
এমবি