বানারীপাড়ায় সংঘর্ষে ট্রলার শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা

বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে দু’টি ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে মুদিমালবাহী ট্রলার ডুবে মোস্তফা কামাল নামের এক শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ী ট্রলার চালকসহ অন্য কারও বিরুদ্ধে কোন ধরণের অভিযোগ না থাকায় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও রিপন কুমার সাহার নির্দেশে থানা পুলিশ ওই শ্রমিকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
এবিষয়টি নিশ্চিত করে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো.হেলাল উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার ব্রাক্ষণকাঠী এলাকার সন্ধ্যা নদীতে পাশ্ববর্তী নেছারাবাদ উপজেলার কাঠ ও মুদি মালবাহী দু’টি ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় গৌরনদীর টরকী বন্দর থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রলার ডুবে যায় এবং ওই ট্রলারের শ্রমিক মোস্তফা কামাল নিখোঁজ হন। পরদিন ডুবুরীরা তার লাশ ও ট্রলার উদ্ধার করেন। এঘটনায় মোস্তফা কামালের পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ না থাকায় লাশ ও ট্রলার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মালবাহী ট্রলারের সংঘর্ষের ঘটনায় মোস্তফা কামাল নামের এক শ্রমিক নিখোঁজের পর তার লাশ উদ্ধার হওয়ার ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। ফলে ওই ঘটনায় শ্রমিক মোস্তফা কামাল ও ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলার মালিকের পরিবার থানায় কোন মামলা দায়ের করেনি। এব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ মুখ খুলতে না চাইলেও বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ঘরামী নিশ্চিৎ করেছেন বিষয়টি।
তিনি জানান, দু’পক্ষই ধনাঢ্য তারা “ট্রলার মালিক” নিজেরা নিজেরা এলাকায় বসে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিলে গেছেন।
অপরদিকে সন্ধ্যা নদীতে রাতের আঁধারে ট্রলার চালানোর কারণে দু’টি মালবাহী ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও রিপন কুমার সাহা দু’জন সুকানীকে নগদ ২০০০ টাকা করে মোট ৪০০০ টাকা জরিমানা করেছেন।
এমবি