অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা: বিএমপি কমিশনার

ডিজেলের মূল্য ২৩ ভাগ বৃদ্ধির অজুহাতে বরিশালে এলপি গ্যাস চালিত থ্রীÑহুইলারের ভাড়া বেড়েছে ৫০ ভাগ। করোনা মহামারীর অজুহাতে ব্যাটারী চালিত রিক্সার ভাড়াও গত দেড় বছরে দ্বিগুন বেড়েছে। গত দুবছর ধরে সিটি করপোরেশন ব্যাটারী চালিত ইজি বাইকের লাইসেন্স নবায়ন করছে না। ফলে পুরো নগরী জুড়ে অবৈধ ইজিবাইকেরও ছড়াছড়ি। আর এ সুযোগে কতিপয় ট্রাফিক পুলিশ এসব ইজিবাইক আটকে নানাভাবে অবৈধ সুযোগ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নগরীতে কোন অযান্ত্রিক যানবাহনের চালকদেরও সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স নেই। সব মিলিয়ে চরম অব্যবস্থা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে চলছে মহানগরীর পরিবহন ব্যবস্থা। আর পদে পদে এর খেশারত দিচ্ছেন নগরবাসী। পথে নামলেই নানাভাবে নাকাল হতে হচ্ছে বলে সুস্পষ্ট অভিযোগ নগরবাসীর।
নগরীর প্রায় ৯০ভাগ মানুষ পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট। ব্যাটারী চালিত অবৈধ রিক্সার দাপটে মহানগরীর সর্বত্র দূর্ঘটনার ঝুকি বেড়েছে কয়েকগুন। বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে দূর্ঘটনাজনিত রোগীর একটি বড় অংশ জুড়েই ব্যাটারি চালিত রিক্সায় দূর্ঘটনার শিকার।
এদিকে ২০০২ সালে চালু করা মহানগর দ্বিতল বাস সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেনা সমর্থিত কথিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়। ফলে নগরবাসীর জন্য সহনীয় যাত্রী ভাড়াও ইতোমধ্যে প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে। ইতোপূর্বে নগর ভবন থেকে ইস্যুকৃত প্রায় সাড়ে ১২ হাজার প্যাডেল চালিত রিক্সার বেশীরভাগেরই লাইসেন্স এখন নবায়ন হচ্ছে না। নগরীতে এধরনের কত রিক্সা চলমান আছে তার কোন পারিসংখ্যান নগর ভবনের কাছে না থাকলেও সংখ্যাটা তিন হাজারের বেশী নয় বলে মনে করছেন নগরবসী। তবে চলতি অর্থ বছরে মাত্র ৫ হাজারের মত রিক্সার লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে বলে নগর ভবনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু ব্যাটারী চালিত অবৈধ রিক্সা পুরো নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ২০১৯ সালে এসব রিক্সা বন্ধে ট্রাফিক বিভাগ ও নগর ভবন উদ্যোগ নিলে চালকরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে আমরন অনশন করে এক বছরের জন্য সদর রোড বাদে চলাচলের সম্মতি আদায় করে রাজপথ ছাড়ে। কিন্তু সে একবছর পার হয়ে আরো বছর খানেক অতিক্রম হতে চললেও করোনা সহ নানা কারণে সবকিছু চাপা পরার সুযোগে নগরী যুড়ে অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সার ছড়াছড়ি। তবে গত এক বছরে ভাড়াও বেড়েছে দ্বিগুন। উপরন্ত এসব অবৈধ রিক্সার বেপরোয়া চলাচলে নগরীতে দূর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে। পঙ্গু হচ্ছে অগনিত মানুষ। এমনকি সিটি করপোরেশন থেকে ইস্যু করা আড়াই হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়ন না করায় এখন নগরীতে এ ধরনের প্রায় দ্বিগুন যানবাহন চলছে। কোথাও কেউ দেখার নেই। অথচ যাত্রী ও পরিবেশ বান্ধব এবং নিরাপদ এসব যানবাহন যাত্রী বান্ধব বলে ইতোপূর্বে বিবেচিত হলেও তা কোন নিয়ম শৃংখলার মধ্যে নেই।
এদিকে নগরী জুড়ে এলপি গ্যাস চালিত ইজিবাইকের লাইসন্সে প্রদান করছে বিআরটিএ। কিন্তু ঐসব যানবাহনের ভাড়া ও রুট নির্ধারন কোন নিয়ম শৃংখলা সিটি করপোরেশন সহ কারো হাতে নেই। এমনকি নগরীতে এলপি গ্যাস চালিত স্কুটারও চলছে বিআরটিএ’র লাইসেন্সে। কিন্তু সেখানেও নগর ভবন সহ বিআরটিএ বা জেলা প্রশাসনের কোন নিয়ন্ত্রন নেই। কতিপয় প্রভাবশালী চাঁদাবাজ রুট ও ভাড়া নির্ধারন সহ নগরীর বেশীরভাগ গন পরিবহন নিয়ন্ত্রন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ । সোমবার (২৯ নভেম্বর) মেট্রো আরটিসি ও মেট্রো সড়ক নিরাপত্তা কমিটি সভায় সভাপতি পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার এই হুশিয়ারী দেন । সভায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মেট্রোপলিটন এলাকায় সড়ক পথে শৃঙ্খলা রক্ষায়, রুট পারমিট, রেজিষ্ট্রেশন, ফিটনেসহীন যানচলাচল ও চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সহ সকল অনিয়ম বন্ধে গুরুত্ব আরোপ করেন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে সুশৃঙ্খলভাবে যানচলাচলের অনুরোধ জানিয়েছেন বিএমপি কমিশনার।
এইচকেআর