আগৈলঝাড়ায় ইরি-বোরো চাষে মাঠে নেমেছেন চাষিরা

বরিশাল জেলার অন্যতম শষ্য উৎপাদনকারী উপজেলা আগৈলঝাড়ায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতে মাঠে কাজে নেমেছেন চাষীরা। বীজ তলা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দোলন চন্দ্র রায় জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৯ হাজার ৪শ ৫০ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চালের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ হাজার ৯শ ৭৫ মেট্রিক টন।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় মোট আবাদী জমির মধ্যে ৯হাজার ১শ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড ধান ও ৩শ ৫০হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফসী) বোরো ধান আবাদ করা হবে। এর মধ্যে অন্তত ৩শ হেক্টর জমিতে আগাম বোরো আবাদ করবেন চাষিরা। আগাম বোরো চাষের জন্য ২০ হেক্টর জমিতে বীজতলা করেছেন চাষিরা।উপজেলার কৃষকরা
এবার উৎসাহ উদ্দীপনায় ইরি-বোরো আবাদ শুরু করেছেন। জমি প্রস্তুত করতে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষাণীরা।জমিতে পানি সেচ, হালচাষ, সার প্রয়োগ, বীজ উঠানো ও প্রস্তুতকৃত জমিতে চারা রোপণ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে কৃষকরা।
এ দিকে সকালের শীত উপেক্ষা করে সন্ধ্যা অবধি ইরি-বোরোর জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কেউ বা জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন। কেউ সেচের জন্য ড্রেন নির্মাণ কিংবা পাম্পের বা শ্যালো মেশিনের জন্য ঘর তৈরি করছেন। আবার অনেকে তৈরি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করে কেউ বা বীজতলা থেকে চারা তুলে তা রোপণ করছেন জমিতে।
গৈলা ইউনিয়নের চাষি জহিরুল ইসলাম বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে আমাদের। এবার আমন চাষ করে আমরা লাভবান হয়েছি। সেই আশায় পুরোদমে আবার ইরি-বোরো আবাদ শুরু করে দিয়েছি।
বাকাল গ্রামের চাষি নাছির ফকির জানান, অন্যান্য বছর কোল্ড ইনজুরিতে পচন লেগে বীজ ধানের চারা নষ্ট হয়ে যেতো। কিন্তু এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো চারাও বেশ ভালো হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, ৪ হাজার ৮ পরিবারকে ২ কেজি করে ৯ হাজার ৬শ কেজি হাই ব্রীড ধান বীজ এবং ১ হাজার জনকে ৫ কেজি করে উফসী ধান বীজ বিতরণ করা চলমান রয়েছে। উফসী চাষীরা সরকারী প্রনোদনা হিসেবে বীজের সাথে ড্যাপ সার ১০ কেজি ও এমওপি ১০ কেজি সার সহায়তা পাবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনেরও আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায়।
এসএম