ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় টিয়া পাখির অভয়ারণ্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় টিয়া পাখির অভয়ারণ্য
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ। ৫০ একর আয়তনের বিশ্ববিদ্যালয়টি বয়সে যতটা নবীন, ইতিহাসের দিক তার চেয়ে বেশি প্রবীণ। ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশ স্বাধীনতার আগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা তৈরি হয়। ১৯৭৩ সালে বরিশালের বেলস্ পার্কে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু উদ্যান) একটি শহর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।


অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণ শুরু করেন। বরিশাল জিলা স্কুল অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ২৪ জানুয়ারি, ২০১২ সালে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে স্থায়ী ক্যাম্পাসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।

প্রাকৃতিকভাবেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অনন্য হলেও প্রতিষ্ঠার পর ছিলো এটি বিরানভূমি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ায় ক্যাম্পাস ফিরে পেয়েছে তার নতুন প্রাণ।

এখানে শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙে টিয়া পাখির কিচিরমিচির শব্দে। এ যেনো টিয়া পাখির সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরল বন্ধুত্ব! ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে এরা আপনাকে স্বাগতম জানবে অতি যত্নে।


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নাছোড়বান্দা! শিক্ষার্থীদের একাধিক সংগঠন পাখিদের অভয়ারণ্য তৈরিতে ব্যস্ত। ইতোমধ্যে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানের গাছের সঙ্গে বেঁধেছেন হাঁড়ি। লক্ষ্য শুধু একটাই, পাখিরা থাকবে।

এ বিষয়ে কথা হয়েছিলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন ও পশুপাখি নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'আরণ্যক' এর অন্যতম সদস্য এবং মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলিসা মুনতাজের সাথে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৃক্ষরোপনের বিষয়টি যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন সেটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন করা হয়েছে বিদ্যমান গাছপালাগুলো রেখে বিধায় টিয়াপাখিগুলো এখানে নিজেদের বসবাসের উপযোগী মনে করছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় তারা একটি শান্ত পরিবেশ পেয়েছে ফলে ক্যাম্পাস টিয়া পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক অবস্থান, বিদ্যমান বৃক্ষ এবং পাখিদের প্রতি কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক মনোভাবই ক্যাম্পাসে টিয়া পাখির অভয়ারণ্যের মূল কারণ।

 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন