ঢাকা শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ

অনুমোদিত পদের ষাট ভাগের বেশি শূন্য: অচল হওয়ার পথে শিক্ষা কার্যক্রম

অনুমোদিত পদের ষাট ভাগের বেশি শূন্য: অচল হওয়ার পথে শিক্ষা কার্যক্রম
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

দক্ষিণাঞ্চলে চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। কলেজটিতে ২২৩ পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯৮ জন। অনুমোদিত পদের ৬০ ভাগেরও বেশি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম অচল হওয়ার পথে।

জানা গেছে, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, কিউরেটর, প্রভাষক, প্যাথলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার ও বায়োকেমিস্টের ২২৩ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯৮ জন। জনবল বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসাবে থাকা ২৬ জন ও একজনকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও ১২৫ পদে কোনো শিক্ষক নেই। অনুমোদিত পদের ৬০ ভাগেরও বেশি শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম অচল হওয়ার পথে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৬ জন অধ্যাপকের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। মন্ত্রণালয়ে ওএসডি থাকা দুজন অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়ার ফলে মোট অধ্যাপক সংখ্যা এখন তিনজনে দাঁড়িয়েছে। শূন্য পদের সংখ্যা ৩৩। ৫০ জন সহযোগী অধ্যাপকের মধ্যে আছেন ১৩ জন। মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসাবে থাকা ৬ জনকে নিয়োগ দিলেও ৩৭ পদে সহযোগী অধ্যাপক নেই। ৮০টি সহকারী অধ্যাপক পদের বিপরীতে ৪৬ জন কর্মরত আছেন। তবে এর মধ্যে ১৮ জনই মন্ত্রণালয় থেকে ওএসডি হিসাবে সংযুক্ত। তারপরও শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪। এ চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ৪৪টি প্রভাষক পদের বিপরীতে কর্মরত ২৮ জন। এর মধ্যে একজন প্রেষণে নিযুক্ত আছেন। ছয়জন মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন দুজন। আর এ চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে একমাত্র বায়োকেমিস্ট পদে কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভাইরোলজি, শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি, ক্লিনিক্যাল নিউরো সার্জারি, অর্থোপ্লাস্ট, অর্থোপেডিক ও ট্রমাটোলজি, স্পাইন সার্জারি, জেনারেল রেডিওলজি, নিউরো রেডিওলজি, রক্ত পরিসঞ্চালন, নিউরো সার্জারি এবং রিউমাটোলজি বিভাগগুলোতে কোনো শিক্ষক নেই। এছাড়া ফিজিওলজি, ফরেনসিক মেডিসিন, মাইক্রো বায়োলজি, কমিউনিটি মেডিসিন, ফিজিক্যাল মেডিসিন, নেফ্রোলজি, প্যাথলজি, নিউওরো মেডিসিন, অর্থোপেডিক, নাক-কান-গলা, রেডিও থেরাপি, ইউরোলজি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি, এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিক, নিউনোটলজি ও রিউমাটোলজি বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের পদগুলোও শূন্য। পাশাপাশি রেসপিরেটরি মেডিসিন, হেপাটলজি, রেডিওথেরাপি, অ্যনেস্থেসিওলজি, রেডিওলজি ও ইমেজিং, চক্ষু, স্পোর্টস মেডিসিন ও অর্থোসকপি, অর্থোপেডিক, সার্জারি, ফার্মাকোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রিসহ আরও কয়েকটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। কলেজটির ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ মাত্র একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও অনুমোদিত পদে সংখ্যা ৭ জন। মাইক্রোবায়োলজি ও কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগেও মাত্র একজন করে সহকারী অধ্যাপক কর্মরত রয়েছেন। মেডিসিন বিভাগে তিনজন অধ্যাপকের পদই শূন্য। সহযোগী অধ্যাপকের ৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। সহকারী অধ্যাপকেরও ৩টি পদ শূন্য। শিশু বিভাগের ৩টি সহযোগী অধ্যাপকের পদেও কোনো জনবল নেই। নেফ্রোলজি বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের ৩টি পদের বিপরীতে মাত্র একজন সহকারী অধ্যাপক কর্মরত আছেন। সাইকেট্রিক বিভাগটিও চলছে মাত্র একজন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে। গাইনি বিভাগের দুটি অধ্যাপক পদই শূন্য থাকার মধ্যে সহযোগী অধ্যাপকের ৩টি পদে আছেন একজন। সহকারী অধ্যাপকের ৫টি পদেও কর্মরত ৩ জন।

শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুনিরুজ্জামান শাহিন জানান, করোনার কারণে ১৯ মাস ক্লাস বন্ধ ছিল। এ সময়ে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। ফলে ওইসব শূন্য পদে জনবল নিয়োগ হয়নি। এখন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে সময় লাগছে। জনবলের সংকট থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়গুলো অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। অতি দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন