ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • সুষ্ঠু ও সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী           পিরোজপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত পরীক্ষার্থী দুই মাস ধরে নেই ইউএনও, অতিরিক্ত কর্মকর্তা দিয়ে চলছে নলছিটি উপজেলা নিরাপদ সড়কের দাবিতে গৌরনদীতে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ঝালকাঠির জীবা আমিনা  সচেতনতার অভাবে অসংখ্য শিশু হাম-রুবেলায় প্রাণ হারাচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী  পদোন্নতির পর ওএসডি হলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন চরমোনাই পীর এএসআই পদে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পুলিশ, আবেদন ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু
  • দক্ষিনাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে ১৫ প্রজাতির দেশি মাছ

    দক্ষিনাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে ১৫ প্রজাতির দেশি মাছ
    দক্ষিনাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে ১৫ প্রজাতির দেশি মাছ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরগুনার আমতলীসহ উপূলীয় এলাকার গ্রামাঞ্চলে  এক সময় অগ্রহায়ন -পৌষ-মাঘে পুকুর, খাল, ডোবায় দেশীয় মাছ ধরার ধুম পড়তো। এখন গ্রামে দেশি মাছের দেখা তেমন  নেই । বিলুপ্তির পথে আছে প্রায় ১৫  প্রজাতির দেশীয় মাছ।

    যে মাছগুলোর দেশি জাত এখন আর  তেমন দেখা যায় না, সেই তালিকায় রয়েছে- টেংরা, পুঁটি, বাইম, খলিসা,খরকাটি, গজার, শবেদা, ডারকা, পোয়া, বালিয়া, চেলা, শাল চোপরা, শৌল, ভেদা, বুড়াল, ফলি, চেং গতাসহ আরও কিছু জাত। গ্রামীণ জীবনের কৃষি ও চাষাবাদ ব্যবস্থা পরিবর্তনের সাথে উজাড় হয়ে যাচ্ছে এসব দেশীয় জাতের মাছ।

    মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে দেশি জাত হারিয়ে অন্যতম কারন হলো, জলবায়ুর প্রভাব ,প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলের জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ নদীর নব্যতা হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ নদী সংশ্লিষ্ট খাল ও বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট হওয়া, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব মা মাছের ডিম ছাড়ার আগেই ধরে ফেলা, ডোবা-নালা পুকুর ছেঁকে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ, মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানো, এবং খালে, বিলে ও পুকুরে নদীতে বিষাক্ত বর্জ ফেলা।

    বর্ষায় ধানি জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাই পেতে মাছ ধরার ঐতিহ্যও হারিয়ে গেছে। যারা একসময় পুকুর, খাল-বিলে মাছ ধরতো তাদের অনেকেই এখন বাজার ছাড়া মাছ দেখতে পান না।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়  খালে বিলে জলাশয়ে  মাছ মরে ভেসে উঠছে। নদী, পুকুর, খালেও মাছ মরছে। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় ক্ষেতের ধান গাছ পচে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়েও মাছ মারা যায়।

    এ বিষয়ে আমতলী  চাওড়া ইউপির খান মতিয়ার রহমান  জানান, ১০ বছর আগেও গ্রাামের বাড়ির দুটি পুকুর থেকে সারা বছর মাছ পেতাম। ঝাঁকি জাল ও বড়শি দিয়ে শোল, টাকি, চেলা, পুঁটি পাওয়া যেতো। শীত মৌসুমে পুকুরের পানি কমে এলে লোকেরা নেমে পানি ঘোলা করতো। তখন জাল, ডালা, খুচন নিয়ে মাছ ধরতে নামতো সবাই। শোল, গজার, চিংড়ি, বায়লা, চান্দা, তারাবাইম, পুঁটি সবই ধরা পড়তো। এখন পুকুরের গভীরতা কমার সাথে সাথে কমেছে পানি। এত এত মাছও নেই। মাঝে মাঝে কিছু চেলা, পুঁটি, বেলের চেহারা দেখা যায়।

    হলদিয়া ইউপির মো. জাকির হোসেন মাষ্টার  জানান, হলদিয়া অফিস বাজার ধানখালী  এলাকার বড় মাছ বাজার। এই বাজারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা প্রজাতির দেশি মাছে ভরা থাকতো। এখন মাছগুলো বাজারে ওঠে না। বাজারের এক কোনায় দেশি প্রজাতির মাছ দেখা যায়। চাষের মাছে সয়লাব। যেদিকে তাকাই, পাঙ্গাস আর তেলাপিয়া।’তিনি আরও বলেন, ‘ধানের জমির সার ও কীটনাশক মিশে নদী ও খালের পানি নষ্ট হচ্ছে। সার ও কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় দেশি মাছ মরছে।’

    এ প্রসঙ্গে আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা  হালিমা সরদার  জানান, ‘বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যে মাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে বলে শুনছি, সেগুলো নিয়ে গবেষণা চলছে। পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড় মাছের চাষ হচ্ছে। এর উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশি জাতের মাছ ফিরিয়ে আনা।’

     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ