বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীদের জন্য রান্না করা খিচুড়ি গেলো এতিমখানায়

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার ও কর্মীসমর্থকদের খাওয়ানোর জন্য আয়োজন চলছিল। বড় বড় চারটি ডেকচিতে রান্না হচ্ছিল গরুর মাংসের খিচুড়ি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বাদ যাবেন কেন। তাদের জন্যও আলাদা ডেকচিতে রান্না হচ্ছিল মুরগির খিচুড়ি। এ যেন মহাভোজের আয়োজন।
মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে ওই খাবার পরিবেশনের কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে সেখানে গিয়ে হাজির হন উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান। জব্দ করেন রান্না করা খাবার।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রামপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এমন ভোজের আয়োজন করেছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (আনারস প্রতীক) চেয়ারম্যান প্রার্থী সরোয়ার মাহমুদের ছেলে ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সোহাগ।
রামপট্টি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতে সরোয়ার মাহমুদের নির্বাচনী সভা ছিল। প্রায় এক হাজার লোকের সমাগমের কথা ছিল। সভার পর তাদের খাওয়ানোর জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়। যখন রান্নার কাজ প্রায় শেষ, তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন।
তারা আরও জানা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল দেখে সেখান থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছেলে ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সোহাগসহ কয়েকশ লোক পালিয়ে যান। বেশ কয়েকজন আশপাশের বিভিন্ন বাড়ি ও বাগানে আশ্রয় নেন। পরে ভোজের আয়োজন বন্ধ করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি রান্না করা খাবার জব্দ করে তা বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরোয়ার মাহমুদ ওয়ার্কার্স পার্টি করতেন। ৭ জানুয়ারি তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করবেন। মনোনয়ন পেতে কম দৌড়ঝাঁপ করেননি। তবে রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মুহা. আকতার উজ্জামান মিলন। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সরোয়ার মাহমুদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে খাবারগুলো জব্দ করা হয়েছে। পরে খাবারগুলো চারটি এতিমখানায় বিতরণ করে দেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছেলে ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে। আমার বাবা সরোয়ার মাহমুদ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে বাবার অনেক কর্মীসমর্থক আছেন। তারা বাবার জন্য খাটছেন, প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের জন্য রাতে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। খুব বেশি হলে এক দেড়শ কর্মীসমর্থকদের খাবার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী বাবার জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিষয়টি ভিন্নভাবে প্রচার করেছেন।
রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরোয়ার মাহমুদ ছাড়াও আরও তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এইচকেআর