বরিশালে তিন চাকার যাত্রীবাহী যানে নৈরাজ্য, যাত্রীদের ক্ষোভ

বরিশাল নগরীতে তিন চাকার যাত্রীবাহী যানে নৈরাজ্য চলছে। গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দামি বৃদ্ধির অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন সিএনজি, গ্যাসচালিত অটো এবং সাধারণ রিকশা চালকরা। ডিজেলচালিত যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। আর এর ফলে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ। যদিও জ্বালানি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। তবে সুষ্ঠু নজরদারির অভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে তিন চাকাবিশিষ্ট প্রায় সব ধরনের যানবাহন থেকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সোমবার ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির সরকারি ঘোষণার সাথে সাথেই বাড়তে শুরু করে বরিশালের যাত্রীবাহী পরিবহনের ভাড়া। বিশেষ করে তিন চাকার যানের ভাড়া বেড়েছে ৫০ শতাংশ হারে। সিএনজি গ্যাসচালিত অটোরিকশায় ন্যূনতম ভাড়া ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি পায়ে চালিত রিকশার ভাড়া বেড়েছে আরও বেশি। ফলে নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে।
যাত্রীরা জানান, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা রুপাতলী এবং নথুল্লাবাদ পর্যন্ত নিএনজি ও গ্যাসচালিত অটোরিকশার পূর্বের ভাড়া ছিল ১৫ টাকা। বর্তমানে সেখানে ২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। হাতেম আলি কলেজ চৌ মাথা থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত পূর্বের ভাড়া ১০ টাকার স্থলে ১৫ টাকা, লঞ্চঘাট থেকে রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৫ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে ২০ টাকা করে ভাড়া নেয়া হচ্ছে। অপরদিকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে হাতেম আলি কলেজ চৌমাথা পর্যন্ত আগের ভাড়া ছিল ১০ টাকা, এখন নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, আর রুপাতলী থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত ১০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন চালকরা। এভাবে প্রায় প্রতিটি সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছে। এছাড়া এসব রুটের যাত্রীরা যেখানেই নামুক না কেন তাদের কাছ থেকে কমপক্ষে ১০ টাকা করে আদায় করছেন চালকরা। আর ভাড়ার এমন অসাঞ্জস্যতা নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে যাত্রী-চালকদের মাঝে। এদিকে পায়ে এবং ব্যাটারি চালিত রিকশার ভাড়া বেড়েছে সীমাহীন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে এসব রিকশা চালকরা আদায় করছেন ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া। আর এ ক্ষেত্রে নিরুপায় যাত্রীদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, সিএনজি গ্যাসের দাম না বাড়লেও চালকরা এর দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। দাবিকৃত অর্থ না দিলে শিকার হতে হচ্ছে নাজেহালের। আর রিকশাওয়ালাদের যেন পোয়াবারো। কোন কারণ ছাড়াই তারা বাড়তি ভাড়া দিতে যাত্রীদের বাধ্য করছে। এমন অব্যবস্থাপনা রোধে সংশ্লিষ্টদের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সিএনজি এবং গ্যাসচালিত অটোরিকশার চালকরা জানান, নগরী এলাকার একজন চালককে প্রতিদিন মালিককে ৯০০ এবং ৫০০ টাকা করে দিতে হয়। আর দৈনিক গ্যাস প্রয়োজন হয় ৩০০ এবং টাকার ২০০। কিন্তু গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। তাই বাড়তি ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
ব্যাটারি এবং পায়েচালিত রিকশা চালকরা জানান, বাজারে সবধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া মালিকরাও তাদের দৈনিক আদায়কৃত অর্থ বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। তাই যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
এমবি