উজিরপুরে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামীদের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বরিশালের উজিরপুরে আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামী কর্তৃক বাদী পরিবারকে হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টায় উজিরপুর প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন তালুকদারের মেয়ে সোনিয়া বেগম এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে, আহত সোহাগ, জুয়েল, মেয়ে স্বর্না আক্তার, নিহত বিপ্লব তালুকদারের স্ত্রী আহত রোজিনা বেগম, মেয়ে কনক চাঁপা, জান্নাত আক্তার, জিনিয়া আক্তার, আহত সোহাগ তালুকদারের স্ত্রী কল্পনা বেগম, ছেলে তম্ময় ও তানভীর, আহত জুয়েলের স্ত্রী নাজনিন আক্তার মুন্নি, জিমহা।
সোনিয়া বেগম লিখিত বক্তব্য বলেন, ২৯ জুলাই সকালে সন্ত্রাসীরা আমার পিতা ও ভাইকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেও ক্ষান্ত হয়নি। আমার আর এক ভাই সোহাগ তালুকদার ও ভাবী (নিহত বিপ্লব তালুকদারের স্ত্রী) রোজিনা বেগম পঙ্গুত্বের জীবন বরণ করছেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমাদের পরিবারের আয় উপার্জনের কেউ নেই। বর্তমানে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। অপরদিকে মামলার আসামী ছাত্রদল ক্যাডার সাইদুল বেপারী উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে তার নিকট আত্মীয় হস্তিশুন্ড ৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জাকারিয়া মোল্লা ও তার ছেলে শিপন মোল্লা এবং সৈয়দ লিটুসহ কতিপয় সন্ত্রাসীরা পরিবারের সকল সদস্যকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন।তাদের ভয়ে পরিবারের ছোট ছেলে-মেয়েরা সন্ত্রাসীদের ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি আমরা। হুমকির ঘটনায় ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উজিরপুর মডেল থানায় পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করি যার নং-৮১৪। এরপরও বেপরোয়া ওই সন্ত্রাসী বাহিনী হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এই সংবাদ সমম্মেলনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং আমার পরিবারের আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা ও বাবা ও ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসী, এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবী জানাচ্ছি।পাশাপাশি বাকী আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবী জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ২৯ জুলাই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বামরাইল ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন তালুকদার ও তার ছেলে বিপ্লব তালুকদারকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং সপরিবারকে কুপিয়ে জখম করে।
এ ঘটনায় নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম জুয়েল তালুকদার বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় মো. নুরুল ইসলাম ওরফে নূর ইসলাম সেপাইকে প্রধান আসামী করে ৩২জন ও অজ্ঞাত ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এইচকেআর