ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে : বার্নিকাট দীর্ঘ ৯ মাস অনুপস্থিত, প্রকৌশলীকে খুঁজতে থানায় জিডি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০ : ইরান ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত ৩ বরগুনা‍য় নারী কর্মীদের ধাওয়া, প্রতিবাদ করায় জামায়াত নেতার ওপর হামলা ১ কোটি লিটার সয়াবিন, ৪০ হাজার টন ইউরিয়া কিনবে সরকার নলছিটিতে প্যানেল চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মঠবাড়িয়ায় অবৈধ ইটভাটাকে এক লাখ টাকা জরিমানা বোরহানউদ্দিনে মুক্তিপণের বিনিময়ে জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেলেন ৪ জেলে  আওয়ামী সরকারের আমলে যেসব কর্মকাণ্ড নির্বাচন ব্যবস্থা কলুষিত করে
  • বাবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে তারা, বেছে নিচ্ছে জেলে পেশা

     বাবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে তারা, বেছে নিচ্ছে জেলে পেশা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    চরফ্যাশন উপজেলার উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ শিশু জেলে পেশায় জড়িত হয়ে পড়েছে। পরিবারের অভাবের কারণে এই শিশুদের কাছে লেখাপড়ার গুরুত্ব নেই বললেই চলে। তাই জীবন জীবিকার বাস্তবতায় বাবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে তারা, বেছে নিচ্ছে জেলে পেশা।

    উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার জেলে রয়েছেন। তাঁদের মাঝে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৪ হাজার ২৮১ জন। এসব জেলেরা নদী ও সাগরে মাছ শিকার করেন। তথ্য অনুযায়ী জেলে পেশায় যুক্ত আছে প্রায় ৩ হাজার শিশু।

    এই শিশুদের সবারই বয়স ৭ থেকে ১৪ বছর। খোঁজ নিয়ে জানা যায় পরিবারে দারিদ্র্যের কারণেই জেলে পেশায় যোগ দিয়েছে তারা। চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর এলাকার মনির (১১) ও মিজান (১৪) দুই ভাইয়ের গল্পটাও একই। তাদের বাবা কালু মিয়া জেলে পেশায় আছেন অনেক বছর। মাঝে মধ্যে শখের বসে তারা বাবার সঙ্গে নৌকায় করে মাছে ধরতে গেলেও এখন সেটাই তাদের পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    কোনো সময় কালু মিয়ার অনুপস্থিতিতে তাদেরই ধরতে হচ্ছে নৌকার হাল। কালু মিয়া বলেন, ‘আমার একার রোজগারে পরিবারে ছয়জন মানুষের পেট চালানো সম্ভব হয় না। তা ছাড়া নদীতে জাল ফেলা, মাছ ধরা, ঘাটে বেচাসহ এত কাজ একলা করা কষ্টের। তাই না পাইরা দুই পোলারে নিজের সঙ্গে কাজে লইয়া যাই।’ এদের মতো অন্যান্য জেলে পরিবারের শিশুরাও নদীতে ব্যস্ত সময় কাটায়। পরিবারের আয় বাড়ানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ পেশায় যুক্ত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ শিশু।

     সামরাজ মৎস্যঘাট এলাকার জেলে বশির, কামরুল, জালাল মাঝি বলেন, ‘আমগো নুন আনতে পান্তা ফুরায়। নদীতে মাছ না পাইলে সংসার চালাইতে কষ্ট হয়। আমরা পোলাপানের লেখাপড়ার চিন্তা করি না। কারণ সামর্থ্য নাই। আমগো বাপ দাদা জেলে আছিল। আমগো পোলাপানের ভাগ্যেও এই পেশা লেখা আছে। এর থাইকা মুক্তির কোনো উপায় নাই।’

    স্কুলে না গিয়ে শিশুদের জেলে পেশা বেছে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চরফ্যাশন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খালিদ হোসেন জানান, পৌরসভাসহ উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৬২ হাজার ৮০৬ জন। এসব শিক্ষার্থীর ৩০-৪০ শতাংশ উপকূলীয় এলাকার। উপবৃত্তির টাকা ছাড়াও ওদের জন্য বিনা মূল্যের বই বরাদ্দ থাকে। অনুদান নেওয়ার পরও পরিবারের চাহিদা মেটাতে শিশুরা কাজে নামে। স্কুলের হাজিরা খাতায় নাম থাকলেও ওদের দিন কাটে নদীর বুকে। শিশুদের জেলে পেশা বেছে নেওয়ার জন্য তাদের পরিবারের দারিদ্র্যকেই দায়ী করলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার। তবে শিশুদের যেন এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় পাঠানো না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ