ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গৌরনদীতে 'গুম' হওয়া কিশোরকে আদালতে প্রেরণ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গৌরনদীতে 'গুম' হওয়া কিশোরকে আদালতে প্রেরণ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া গ্রামে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিজের পুত্রকে আত্মগোপনে রেখে অপহরণ ও গুম মামলার দায়েরের নয় বছর পর আত্মগোপনকারী পুত্র রাসেল মৃধাকে (২৩) উদ্ধার করা হয়েছে। এ মামলায় ৪ আসামি দীর্ঘ দিন কারাভোগ করে বর্তমানে জামিনে ও বাকি ১০ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। গুম হওয়া কিশোর রাসেল মৃধাকে বুধবার দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় হয়রানী ও নিঃস্ব হওয়া পরিবারের সদস্যরা মিথ্যা মামলার বাদীর ও তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
 
মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামি এস রহমান মৃধা জানান, উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া গ্রামের জালাল মৃধার সাথে তার পূর্ববিরোধ চলে আসছে। এর জেরধরে জালাল মৃধার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল বরিশাল আদালতে ১৪ জনকে আসামি করে তার পুত্র রাসেল মৃধাকে অপহরণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগে বিবাদীদের বিরুদ্ধে জালাল-মরিয়ম দম্পতির সে সময় সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া পুত্র রাসেল মৃধাকে (১৪) মারধর করে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়। আদালত এ বিষয়ে গৌরনদী থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। 

ভুক্তভোগী এস রহমান আরো অভিযোগ করেন, মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী থানার এসআই ও বর্তমানে গৌরনদী শরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মোঃ ফোরকান হাওলাদার বাদীর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এ মামলায় ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ফলে মিথ্যে ওই মামলায় তাকে (এস রহমান) এবং তার পক্ষের লোকজনকে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়।

আসামি এস রহমান বলেন, দীর্ঘ নয় বছর পর আমরা জানতে পারি মামলার বাদী মরিয়মের পুত্র রাসেল ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। রায়েরবাগ এলাকা থেকে আত্মগোপনকারী রাসেল মৃধাকে উদ্ধার করে সকালে গৌরনদী থানায় নিয়ে আসা হয়। 

ভুক্তভোগী রহমান মৃধা, রায়হান মৃধা অভিযোগ করে বলেন, অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুমের মিথ্যাা মামলায় আমরা ৪ জন দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেছি। ১০ আসামি পালিয়ে থেকে দুর্বিষহ জীবন যাপন করেছে। পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলায় ৯ বছরে আমরা ১৪টি পরিবার সহায় সম্বল সব হারিয়েছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোরকান হোসেন বাদীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সঠিক তদন্ত ছাড়াই আমাদের ১৪জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করায় বাদী ও মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।

আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে অপহরণ ও গুম মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী শরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ ফোরকান হাওলাদার বলেন, গৌরনদী উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের মোঃ জালাল মৃধার স্ত্রী ফাহিমা বেগম (৪৫) বাদি হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে ২০১২ সালের গৌরনদী থানায় তার ছেলে রাসেল মৃধাকে (২৩) অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুমের একটি মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলন- একই গ্রামের প্রতিবেশী এস. রহমান মৃধা (৫৫), তার ছেলে আরমান মৃধা (২৬), ছোট ছেলে রায়হান (২৩), স্থানীয় শাহীন মল্লিক (৩০), হক ভূইয়া (৭০), তার ছেলে মবিন ভুইয়া (২৮)সহ ১৪ জন। ১৪ জনের স্বাক্ষ নেয়ার পর সত্যতা পেয়ে আমি ২০১৩ সালে ৩১ ডিসেম্বর এজাহারভুক্ত ১৪ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করি। ভিকটিম জীবিত থাকার পরেও তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ ফোরকান হোসেন বলেন, মামলার তদন্তকালে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তাতে যে তথ্য পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ হেলালউদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণ ও গুম হওয়া ভিকটিম রাসেল মৃধাকে উদ্ধার করে বুধবার দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতে প্রেরণ করে। আদালতের বিচারক ভিকটিমকে জবানবন্দি শেষে নিজ জিম্মায় জামিন প্রদান করেন। উদ্ধারকৃত রাসেলের বিরুদ্ধে অপর একটি অপহরণ মামলায় পলাতক থাকায় তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করেন। 
 


এমবি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ