রাজাপুরে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ

ঝালকাঠির রাজাপুরে নুরে আলম (৩১) নামে এক যুবককে দুর্বৃত্তরা বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের কতবেলতলা এলাকার রাস্তার পাশের একটি ডোবা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এসআরবি ও সিআইডির সদস্যরা পরিদর্শন করেন। তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। নিহত নুরে আলম নৈকাঠি গ্রামের মো. আফসার আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, রাজাপুরের নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় অটোরিকশাচালক জাকির ও তাঁর স্ত্রী ময়না একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ময়নার চাচা সম্পর্কের পরিচয়ে নুরে আলম ওই বাসায় প্রায়ই রাতযাপন করতেন। স্থানীয়দের ধারণা ময়নার সঙ্গে নুরে আলমের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে।
এ নিয়ে বুধবার বিকেলে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে নুরে আলমের হাতাহাতি হয়। পরে নুরে আলম ময়নাদের বাসায় চলে যায়। সেখানেই রাতে অবস্থান করছিলেন তিনি।
ময়না আক্তার জানান, বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মুখোশ পড়া সাত থেকে আট জন লোক চাপাতি দেখিয়ে তাঁদের ভাড়া বাসা থেকে নুরে আলমকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে রাস্তার পাশের একটি ডোবায় তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, নুরে আলমকে রাস্তায় বসে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। রাস্তায় রক্ত লেগে আছে। পরে তাঁর লাশ পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থলে থেকে পুলিশ ও সিআইডি দল আলামত সংগ্রক করেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের বাবা আফছার আলী বলেন, ময়না আমাদের আত্মীয় হয়। আমার ছেলে মাঝেমধ্যে ওদের বাড়িতে থাকতো। ওর কোন শত্রু ছিল না। যারা তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে, পুলিশ তাদের খুঁজে বের করুক। দোষীরা যাতে কোনভাবেই পার পেয়ে না যায়। আমি ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
এইচকেআর