বরিশালে চাঞ্চল্যকর আখি হত্যা মামলার আসামি স্বামী ও শশুর প্রায় তিনমাস পর ঢাকায় গ্রেপ্তার

বরিশাল নগরীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী আখি আক্তার হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত স্বামী তৌহিদুর রহমান তুহিন ও শশুরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আত্মগোপনে থাকার প্রায় তিন মাস পর শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে র্যাব-৩ এর সহযোগিতায় পৃথক অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মালিবাগ রেলগেইট এবং সবুজবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৮ এর সদস্যরা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঝালকাঠি সদর উপজেলার গুয়াটন এলাকার তৌহিদুর রহমান তুহিন (২২) ও তার বাবা নান্নু মীর (৪৫)। গত বছরের ১৯ এপ্রিল বাড়ির বাথরুম থেকে আখি আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই সপরিবারে আত্মগোপনে ছিলেন তারা।
র্যাব-৮ এর মিডিয়া কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার বরাতে র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার তৌহিদুর রহমান তুহিনের স্ত্রী আখি আক্তার। ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। তাদের ১১ মাসের একটি কন্যা সন্তানও আছে।
বিবাহের পর থেকে তৌহিদুর রহমান তার মা-বাবার যোগসাজশে যৌতুকের দাবিতে আখিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।
এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে ১৯ এপ্রিল রাত ৪টার মধ্যে স্বামী এবং শশুর বাড়ির লোকেরা মিলে পরিকল্পিতভাবে আখিকে শারীরিক নির্যাতনের পর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে।
পরে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মৃতদেহ টয়লেটের প্যানের ওপরে ঝুলিয়ে রাখে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ওই রাতেই মৃতদেহ উদ্ধার করে। তবে তাদের উপস্থিতির আগেই স্বামী-শশুরসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় গৃহবধূর মা মিনারা বেগম বাদী হয়ে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হত্যার অভিযোগে মামলার আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।
র্যাব জানায়, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকেই র্যাব-৮ ছায়াতদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। অবশেষে ১৭ জুলাই রাতে ঢাকার শাহাজানপুর থানাধীন মালিবাগ রেলগেইট থেকে স্বামী তৌহিদুর রহমান তুহিন এবং তার বাবা নান্নু মিয়াকে সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাদেরকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এইচকেআর