বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ রয়েছে ক্লাস, পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম

২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন কর্মসূচি দেন শিক্ষকরা।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেসন জটের শঙ্কায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদোন্নতি পাচ্ছেন, নিয়োগ পাচ্ছেন অথচ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকার কথা ৪০০-এর বেশি, কিন্তু আছে মাত্র ২১০ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ বিভাগ দু-তিন জন দিয়ে চলছে। এক-একজন শিক্ষকের ওপর ১৪-১৫টি কোর্সের চাপ পড়ছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেছেন, সরকার ২০২১ সালে পদোন্নতির ন্যূনতম যোগ্যতার নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালার নির্দেশিকার আলোকে নীতিমালা বা সংবিধি প্রণয়ন করতে হবে। ইউজিসি থেকে এমন এক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে শিক্ষকরা চাচ্ছেন ২০১৫ সালের নীতিমালার আলোকে পদোন্নতি। এ নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এর আগে দাবি আদায়ে মঙ্গলবার কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। দাবি আদায়ে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে আমরণ অনশনে বসেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন। তিনি সোমবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, শিক্ষকদের এ আন্দোলনের কারণে তাদের পরীক্ষা ও নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকায় সেশন জটে পড়তে হবে। এমনিতেই শিক্ষক সংকট থাকায় সিলেবাস সম্পন্ন হয় না, তাদের সেশন জট লেগে আছে। এই সেশন জট আরও দীর্ঘ হবে। এ থেকে পরিত্রান পেতে দ্রুত শিক্ষকদের সমস্যার সমাধানে সরকার এগিয়ে আসবে বলে তাদের বিশ্বাস।
প্রসঙ্গত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পদোন্নতি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। সম্প্রতি তাদের দাবি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের কোনও সাড়া না পেয়ে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হন শিক্ষকরা।
এইচকেআর