ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ‘রাজত্ব’, এক সপ্তাহে ৪ জন নিহত

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলছে অবৈধ থ্রি-হুইলার যানবাহন। ফলে সড়কে যানজটসহ অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক সপ্তাহে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ৪ জনের। ভারী যানের চালকরা বলছেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ এসব যান চললেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব যানচালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষ সোমবার (২মার্চ) বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট এলাকায় ওষুধ কোম্পানির পিকআপের সাথে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে সৌদি প্রবাসী সফিকুল ইসলাম (৪১) ও তার চাচি রিজিয়া পারভীন নিহত হন।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট এলাকায় ইসলাম পরিবহন ও লাবিবা পরিবহনের মধ্যে এই মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস চালক নিহত হয়েছেন। এবং আহত হয় অন্তত ২০ জন। এছাড়া ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে গৌরনদী উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ট্রলি ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নাইমুল ইসলাম নিহতসহ সাতজন আহত হন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহাসড়কে ভারী যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়াভাবে অবৈধ থ্রি-হুইলার মাহিন্দা চলাচলের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।
জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কয়েক হাজার চলছে অবৈধ থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্র চলাচল করছে। এসব থ্রি-হুইলারের মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্র। এসব যানের নেই কোনও সরকারি বৈধতা। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ভারী যানের চালকরা।
মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাসের চালক কামরুল ইসলাম জানান, ছোট থ্রি-হুইলারের যানবাহন মহাসড়কের চলাচলের কারণে ভারী যানবাহন চালাতে সমস্যা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন বাইলেন সড়ক থেকে থ্রি-হুইলারের চালকরা মহাসড়কে হুট করে উঠে যায়। তখন ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এর ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় অনেকের প্রাণ হারাচ্ছেন আবার বেশিরভাগ পঙ্গুত্ববরণ করছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব যান চললেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না দাবি তার।
ঢাকাগামী পরিবহন চালক রাসেল মিয়া বলেন, থ্রি-হুইলার যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করার কথা না থাকলেও অবাধে চলছে এসব যানবাহন। প্রশাসনের সামনেই কীভাবে এরা চলাচল করছে এটা আমাদের বোধগম্য না। মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে হলে থ্রি-হুইলার যানবাহন বন্ধ করে দিতে হবে। এসব যানবাহনের কারণে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে চলাচল করা কঠিন হয়ে যায়।
নাসির নামের এক মাহিন্দ্রচালক বলেন, মাহিন্দ্র গাড়ির সরকারি কোনও রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত কাগজপত্র নাই। তবে দোকান থেকে মাহিন্দ্র কেনার ভাউচার তাদের সঙ্গে রয়েছে। এ ছাড়া থ্রি-হুইলার চালকদের সংগঠনের নেতারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে থাকে। এভাবেই আমরা এসব গাড়ি চালাচ্ছি। প্রশাসনের লোকজন সড়কে কখনোই আমাদের বাধা দেয় না।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামিম শেখ জানান, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব যানবাহন বন্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, শুধু কথা নয়, সড়কে দুর্ঘটনা রোধে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বরিশালবাসীর।
এইচকেআর