ঢাকা সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

Motobad news

সন্ধ্যা হলেই বাড়ে মশার উৎপাত, অতিষ্ঠ নগরবাসী 

সন্ধ্যা হলেই বাড়ে মশার উৎপাত, অতিষ্ঠ নগরবাসী 
ছবি: প্রতীকী
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

“মেয়র আসে মেয়র যায়, সরকার আসে সরকার যায়, প্রশাসক আসে প্রশাসক যায় কিন্তু বরিশাল নগরী থেকে মশা যায় না। কোটি কোটি টাকা মশা মারার জন্য বাজেট হয়। তবুও কোন লাভ হয় না। মশার যন্ত্রনায় একেবারেই অতিষ্ঠ। 

চরম হতাশা আর বিরক্তি নিয়ে এভাবেই প্রতিবেদকের কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করছিলেন নগরীর সাগরদী এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষিকা আয়েশা বেগম। তার এই আক্ষেপ কেবল একার নয়, বরং মহানগরের প্রায় সব বাসিন্দার প্রতিচ্ছবি।

নগরীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যাপ্ত নালা ও নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান না থাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। জমে থাকা নোংরা পানিতে তৈরি হচ্ছে মশার প্রজনন ক্ষেত্র। 

সিটি করপোরেশনের অধীনে বেশ কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো অকার্যকর। ফলে জমে থাকা পানি আর পচা আবর্জনা মশার উপদ্রব বাড়াচ্ছে। এমনকি হাসপাতালসহ বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতেও মশার উপদ্রব থেকে রেহাই নেই। অনেক পরিবার দিনের বেলাতেও মশারি টানিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। মশারি, কয়েল, ইলেকট্রিক ব্যাট কিংবা স্প্রে কোনোটিই যেন স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না।

সরেজমিনে নগরীর রূপাতলী সোহরাব হাউজিং. মাওলানা ভাসাণী সড়ক, নবগ্রাম রোড, সাগরদী লালা দিঘীর পাড়, টিয়াখালীর ঘরামী বাড়ির পোল, রসুলপুর, কেডিসি বস্তি, পলাশপুর, ত্রিশ গোডাউনসহ বিভিন্ন এলাকার অলি গলি ঘুরে দেখা মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

আয়েশা বেগমের মতো অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, মশার কারণে শিশুরা চেয়ারে বসে ঠিকমতো পড়তে পারছে না। তার মতে, ইদানিং মশার উপদ্রব এতো বেড়েছে কয়েল জ্বালাই, স্প্রে করি তবুও কোনও লাভ হয় না। মশা মরে না। অল্প কিছু মরলেও আবার কোত্থেকে যেন চলে আসে। 

নবগ্রাম রোড এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দিন জানান, নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক আগে তার আট বছরের শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারদিন হাসপাতালে ছিল। তিনি বলেন, রাতদিন চব্বিশ ঘণ্টা খাটে মশারি টাঙিয়ে রাখি। এমনকি মশারির ভেতরেই বাচ্চাদের পড়াশুনা করাই।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, আগে কাউন্সিলর ছিল, অভিযোগ করতে পারতাম। এখন প্রশাসক থাকায় তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, গত তিন মাসে ঠিকমত তিন দিনও মশক নিধনের ওষুধ দেওয়া হয়নি। তাছাড়া এই ওষুধ দিলেও কোনও লাভ হয় না।

ত্রিশ গোডাউন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. সোহেল হোসেন বলেন, রাত নেই দিন নেই মশার যন্ত্রণা। সন্ধ্যার পর তো অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কয়েল জ্বালিয়েও গুড নাইট ব্যবহার করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। মশার যন্ত্রণায় দিনের বেলাতেও মশারি টানিয়ে থাকতে হচ্ছে। 

রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা আশিকুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর বাইরে বসে গল্প করার উপায় থাকে না। বছরের পর বছর কর দিচ্ছি, কিন্তু মশার ন্যূনতম সমস্যার সমাধান পাচ্ছি না।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, মশার উপদ্রব কমাতে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিদিন তিনটি ওয়ার্ডে এ কার্য্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ফগার মেশিন দিয়ে ২ লিটার ও ৫০ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। মশার উপদ্রব কমাতে আরও পদক্ষেপ নেয়া হবে। 
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন