তালেবান উত্তেজনা আফগানিস্তানে, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি বাংলাদেশে

তালেবানরা আফগানিস্তানের কাবুল দখলের পর বিশ্বজুড়ে এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ওই দেশটির প্রেসিডেন্টে প্রাসাদ দখলে নিয়েছে তালেবান। এমন পরিস্থিতিতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানান গুঞ্জন চলছে।
বিশেষ করে ‘সমগ্র পৃথিবী এখন সাইবার ওয়ার্ল্ডে বন্দি। জঙ্গিরাও একই মিডিয়ায় তাদের রিক্রুট এবং উদ্বুদ্ধ করছে। সম্প্রতি তালেবানরা আফগানিস্তানে যুদ্ধে যেতে আহ্বান জানিয়েছে। আর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কিছু মানুষ হিজরতে (ঘর ছেড়ে) বেরিয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু গ্রেপ্তার হয়েছে ভারতে, আর কিছু পায়ে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’- সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনারের এমন বক্তব্য ফলাও করে প্রকাশ হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে। যে কারণে বাংলাদেশেও ‘জঙ্গি’ সংক্রান্ত বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
এমন পরিস্থিতিতে আজ সোমবার (১৬ আগস্ট) র্যাবের বক্তব্য জানতে চাইলে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ট মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আফগানিস্তানের যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, সেটি আমরা গভীরভাবে নজরদারির মধ্যে রাখছি। এই প্রেক্ষাপটের সঙ্গে আমাদের দেশের কোনো ব্যক্তির মতবাদ ‘চেইঞ্জ’ হয় কিনা বা কারও মধ্যে জঙ্গি মতবাদ পরিলক্ষিত হয় কিনা সেটিও আমরা নজরদারির মধ্যে রাখছি। বিশেষ করে সাইবার ওয়ার্ল্ডে আমরা তীক্ষ্ণ নজরদারি চালাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করেছি।’
তিনি আরও বলেন, তবে একটি বিষয় বলা জরুরি যে- ‘আফগানিস্তানের প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট পুরোপুরি আলাদা। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়নি।’
জঙ্গিবাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের দেশের জনগণ সবসময়ই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। পৃথিবীর যে’কটি দেশ জঙ্গিবাদ দমন করছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সে হিসেবে আমরা সফল। আমরা জঙ্গিবাদ অনেকাংশে দমন করতে সক্ষম হয়েছি। তাই বলে আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। সম্প্রতি কিছু জঙ্গিকে গ্রেপ্তারও করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আনসার আল ইসলাম, জেএমবি’র সদস্যরা ধরা পড়ছে। সাইবারে আমাদের নিয়মিত নজরদারি চলছে।’
কেউ বাংলাদেশ থেকে গিয়ে আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ র্যাবের কাছে নেই উল্লেখ করে কমান্ডার খন্দকার মঈন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যেসব জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ, ব্রেন ওয়াসের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেরেছি।’
দেশ থেকে গিয়ে তালেবানে যুক্ত হওয়ার তথ্য যদি অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জানা থাকে, তাহলে তাদের সঙ্গে সমন্বিত হয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে র্যাব।
এইচেকআর