ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • কান ধরে উঠবসের পর মায়ের মরদেহ পেল ছেলে 'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়' চিরকুট লিখে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দিতে চাওয়া সেই সোহাগ কারাগারে মঠবাড়িয়ায় যাত্রীবাহী বাস থেকে ২ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার শেবাচিম হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন তথ্যমন্ত্রী রামিসা হত্যার দায় স্বীকার করে জেল আপিলে যা বলেছেন আসামি সোহেল আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক মতবাদ পত্রিকা অফিস পরিদর্শন করলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালক
  • কান ধরে উঠবসের পর মায়ের মরদেহ পেল ছেলে

    কান ধরে উঠবসের পর মায়ের মরদেহ পেল ছেলে
    ছবি: সংগৃহীত 
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    অক্সিজেন না দেওয়ায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ এবং মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে জটিলতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মৃত নারীর ছেলেকে মায়ের মরদেহ ফেরত পেতে চিকিৎসকদের সামনে কান ধরে উঠবস করতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ইতিমধ্যে কান ধরে উঠবসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৩ জুন) ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়।

    স্বজনদের দাবি, ভর্তির মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় তিনি মারা যান। এসময় অক্সিজেনের অভাব ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাকিব হাসান ও ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এদিকে, চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ঘটনার বিচার দাবি করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।

    শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। একইসঙ্গে মরদেহ মর্গে নিয়ে রাখা হয়। অন্যদিকে,মরদেহ দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    মৃতের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মা শনিবার ভোরে মারা গেছেন।

    প্রায় ১০ ঘণ্টা হয়ে গেছে, আমরা মায়ের মুখ দেখতে পারিনি। মায়ের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা বারবার ক্ষমা চেয়েছি, কিন্তু মরদেহ ফেরত পাইনি।

    স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার জেরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব করেন এবং নানা শর্ত জুড়ে দেন।একপর্যায়ে মৃতের ছোট ছেলে রিফাত হোসেনকে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসকদের কাছে কানধরে উঠবস করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। 

    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। চিকিৎসকের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অমানবিক।ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিরাপত্তার স্বার্থে মরদেহটি মর্গে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ