ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • সুষ্ঠু ও সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী           পিরোজপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত পরীক্ষার্থী দুই মাস ধরে নেই ইউএনও, অতিরিক্ত কর্মকর্তা দিয়ে চলছে নলছিটি উপজেলা নিরাপদ সড়কের দাবিতে গৌরনদীতে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ঝালকাঠির জীবা আমিনা  সচেতনতার অভাবে অসংখ্য শিশু হাম-রুবেলায় প্রাণ হারাচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী  পদোন্নতির পর ওএসডি হলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে যা বললেন চরমোনাই পীর এএসআই পদে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পুলিশ, আবেদন ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু
  • ৫ মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ আনতে লাগে ৩০ মিনিট

    শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ রোগী ও স্বজনরা

    শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ রোগী ও স্বজনরা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন মেডিসিন বিভাগের রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে রোগী এবং তাদের স্বজনদের চলাচলের একমাত্র গেটটি বন্ধ করে দিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ আনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের। সেই ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চলমান বর্ষা মৌসুম।
    তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালের রোগী নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা। সেটা ঠেকাতেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মেডিসিন বিভাগের গেট। তবে সার্বক্ষণিক আনসার সদস্য মোতায়েন থাকা সত্যেও দালাল প্রতিরোধ না হওয়ার প্রশ্ন এড়িয়ে যান হাসপাতালের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান শাহীন।


    যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব এবং মধ্য অবস্থানে থাকা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের খুশি করতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছেন মেডিসিন বিভাগের গেট। এতে জিম্মি হয়ে পড়েছে শত শত রোগী এবং তাদের স্বজনরা।


    সরেজমিনে দেখা যায়, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পাশেই রয়েছে চলাচলের প্রধান গেট। জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ সরবরাহ বা বিশেষ প্রয়োজনে গেটটি ব্যবহার করেন রোগী এবং তাদের স্বজনরা। তবে গত কয়েকদিন ধরে গেটটি বন্ধ দেখা যায়।


    স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে তারা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মনে চাইলেই গেটটি বন্ধ করে দিচ্ছে। আবার যখন মনে হয় গেট খুলে দেয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, মেডিসিন বিভাগ থেকে রোগী নিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা। সেই অজুহাতে গেট বন্ধ রাখা হয়েছে।


    তবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট এবং রোগীর স্বজনরা বলছেন, ‘রোগী নামিয়ে নেয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি অজুহাত মাত্র। কেননা মেডিসিন বিভাগের গেট বন্ধ থাকলেও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী যাওয়া থেমে থাকে না। হাসপাতাল স্টাফরাই রোগীদের ভুলিয়েভালিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।


    হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, ‘মেডিসিন বিভাগে অনেক ধরনের রোগী থাকে। অনেক রোগীর হাটবিট এবং রক্তচাপ কমে যায়। তাদের জরুরি ভিত্তিতে, বিশেষ করে সর্বোচ্চ ৫-১০ মিনিটের মধ্যে বিশেষ ইনজেকশন শরীরে পুষ করতে হয়। কিন্তু গেট বন্ধ থাকার কারণে সেই ইনজেকশন আনতে লেগে যাচ্ছে ৩০-৪৫ মিনিট পর্যন্ত। কর্তৃপক্ষ সেই বিবেচনা না করে কিভাবে গেট বন্ধ করে রাখে তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।


    এদিকে, হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের কর্মকাÐ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা ঝাউতলার আল আমিন, দক্ষিণ আলেকান্দার শহিদুল ইসলাম, সাগরদী এলাকার তরুণ দাস এবং হাটখোলার বাসিন্দা আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক হাসপাতালের গেটে নিরাপত্তা দিচ্ছে। তাদের সামনে থেকে রোগী ধরে নেয়া হচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। তাহলে হাসপাতালে আনসারদের দায়িত্ব কী। আবার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা না নিয়ে গেট বন্ধ করে দিচ্ছে। এর পেছনে কোন কারণ আছে কিনা সে বিষয়টিতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের সুদৃষ্টির দাবিও জানান তারা।
    এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে উপ-পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘আমার জানামতে গেট খুলে দেয়া হয়েছে। মেডিসিন বিভাগ থেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকেরা রোগী নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এজন্য গেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।


    ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে গেট বন্ধ করে রোগীদের কেন ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে, এমন প্রশ্নের সঠিক জবাব না দিলেও তিনি বলেন, ‘স্টাফরা বললেই রোগীরা বাইরে যাবে কেন। রোগীদেরও সচেতন হতে হবে।
     


    এমএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ