গৌরনদীতে বিদ্যালয়ে ও মাদ্রাসার শ্রেনীকক্ষে ১০ শিক্ষার্থী অচেতন

অর্ধবার্ষিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলাকালে গৌরনদী উপজেলার হোসনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ৭ শিক্ষার্থী ও হোসনাবাদ নুরানী মাদ্রাসার ৩ শিক্ষার্থী শ্রেনীকক্ষে অচেতন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তাদের অভিভাবক মহলে চরম উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, অসুস্থ্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সূত্রে জানাগেছে, ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ডিজিটাল প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে শনিবার দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থী সুপ্তি (১৫) শ্রেনীকক্ষের ভেতরেই হটাৎ অচেতন হয়ে পড়ে। এ ঘটনা দেখার পর নবম শ্রেনীর মেয়ে শিক্ষার্থীরা একের পর এক অচেতন হতে থাকে। মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে একে একে ৭জন শিক্ষার্থী একই ভাবে অচেতন হয়ে পেড়ে। তাদের ৬ জনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে বাড়িতে চিকিৎসক ডেকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
একইদিন দুপুরে হোসনাবাদ নুরানী মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেনীর তিন শিক্ষার্থী শ্রেনীকক্ষে অচেতন হয়ে পড়ে। তাদেরকেও গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক গন জানিয়েছেন, হোসনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬জন অচেতন শিক্ষার্থী ও নুরানী মাদ্রাসার ৩জন শিক্ষার্থীকে জরুরী বিভাগ থেকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৪জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
বাকি ৬ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অচেতনরা সবাই শ্বাসকষ্টে ভূগছে। ঠিক কি কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ অবস্থা হচ্ছে এ প্রশ্নের কোন স্বদুত্তর মেলেনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে।
বাড়িতে বসে চিকিৎসা নেয়া শিক্ষার্থী খুসবু আরা ছানিন (১৫) এর পিতা সাইদুল ইসলাম মুন্সী জানান, মেয়ের জীবন ও লেখাপড়া নিয়ে এখন খুব উৎকণ্ঠায় আছি। গত ৫ জুন ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ১৩জন মেয়ে শিক্ষার্থী হটাৎ অচেতন হয়ে পড়েছিল। তাদের মধ্যে আমার মেয়েও ছিল।
এ ঘটনার পর আমিসহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবককরা মিলে বিভিন্নভাবে শিক্ষকদেরকে অনুরোধ করেছি শ্রেনীকক্ষে ইলেকট্রিক ফ্যানসহ আলো বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা রাখতে। তারা আমার কথার প্রতি কোন গুরুত্বই দেয়নি।
এক পর্যায়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মেয়েকে পরীক্ষা দেয়াবো না। স্যারদের অনুরোধে পরীক্ষা দেয়াতে রাজি হই। শ্রেনীকক্ষে আমার স্ত্রী হাতপাখা নিয়ে বসে থেকে মেয়েকে বাতাস দিচ্ছিল। তার পরও মেয়েকে সুস্থ্য রাখতে পারলামনা। আজ (শনিবার) আবার শ্রেনীকক্ষে আমার মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়ল।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ৭জন ছাত্রী অচেতন হয়ে পড়ায় তাদেরকে নিয়ে স্বজনরা হাসপাতালে গেলেও কোন শিক্ষক তাদের সাথে যায়নি। এ ঘটনায় অবহেলজনিত অপরাধে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
হোসনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার বিদ্যলয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। শিক্ষক সংকটের কারনে পরীক্ষা নিতেই হিমসীম খাচ্ছি। এ অবস্থায় অভিভাবকদেরকে ডেকে আমরা তাদের হাতে শিক্ষার্থীদেরকে তুলে দিয়েছি।
এইচকেআর