জীবনানন্দ দাশের প্রয়াণ দিবসে জ্বলে উঠলো শত প্রদীপ

রোববার বরিশাল বিএম কলেজে পালিত হলো রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৬৯ তম প্রয়াণ দিবস। দিনটি পালনে কবি জীবনানন্দ দাশ চত্বরে প্রজ্জ্বলন করা হয় শত প্রদীপ।
১৯৫৪ সালের এই দিনে পরাবাস্তববাদী কবি কোলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যান। ‘শরীর রয়েছে, তবু মরে গেছে আমাদের মন হেমন্ত আসেনি মাঠে, হলুদ পাতায় ভরে গেছে হৃদয়ের বন।
রোববার কবির স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে কবি জীবনানন্দ দাশ চত্বরে গোধুলীর আলো দিগন্তে মিলিয়ে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসতেই জ্বলে উঠলো শত প্রদীপ। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপী চলে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি।
আলোক শিখা জ্বালিয়ে কবিকে অনুভব করার জন্যই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি বলে জানালেন আয়োজকরা। এজন্য ‘একটি প্রদীপ শিখা হাতে এসো জীবনানন্দের অঙ্গনে’ নাম দিয়ে ফেসবুক ইভেন্ট খোলা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়- প্রকৃতির এই নির্জনতম কবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ২২ অক্টোবর তার প্রয়াণ দিবসে আমরা একটি প্রদীপ শিখা জ্বালাতে চাই। আমরা যারা হাজির হবো সেই শ্রদ্ধা আয়োজনে তারা প্রত্যেকেই একটি প্রদীপ বা মোমবাতি নিয়ে আসবো। তারপর সন্ধ্যার রাঙামেঘ তার রূপ নিয়ে অন্ধকারের বুকে মুখ লুকাবে যখন, তখন আমরা কবি চত্বরে জ্বালাবো প্রদীপ শিখা।’
জীবনানন্দ দাশের প্রতি ভালোবাসা থেকে এই ডাকে সাড়া দিয়ে অনেকেই আসেন কবি চত্বরে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হয়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। যারা এসেছিলেন তারা নিজেরাই প্রদীপ ও মোমবাতি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ চত্বরে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরোয়ার। এসময় তিনি বলেন "এ বছর যেহেতু কলেজ বন্ধ তাই কলেজ প্রশাসন বৃহৎ কোনো আয়োজন করতে পারেনি। তবে কলেজ খুললে আমরা আয়োজন করবো।
এই আয়োজনের উদ্যোক্তা ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন এবং উত্তররণ সাংস্কৃতিক সংগঠন। বি এম কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুজয় সরকার বলেন, ‘বিএম কলেজ জীবনানন্দ দাশের খুবই স্মৃতি বিজড়িত একটি স্থান। তিনি এই কলেজের ছাত্র ছিলেন।
এই কলেজর শিক্ষকও ছিলেন। এই বাংলার জল মাটি বাতাসকে ভালোবেসে তিনি ফিরে আসতে চেয়েছেন বারবার। উন্নয়নের নামে প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংসের আয়োজনে ভালো নেই জীবনানন্দ। আমাদের জীবনানন্দ কে স্মরণ করে শুধু প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব শেষ নয়। আমরা মনে করি প্রকৃতি প্রাণ বাঁচলে জীবনানন্দ বাঁচবেন। ফুল বাঁচলে, পাখি বাঁচলে, নদী বাঁচলে, গাছ বাঁচলে জীবনান্দের কবিতারা বাঁচবে।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সানজিদুল ইসলাম বলেন, কবিতাকে যারা ভালোবাসে তারা জীবনকে ভালোবাসে।সেই উপলব্ধির জায়গা থেকেই আজ আমরা কবিকে শ্রদ্ধা জানালাম আমাদের নিরব ভালোবাসার মাধ্যমে। উত্তরণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি সুদীপ্ত দাস বলেন," দীর্ঘদিন ধরে আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে কবির ম্যুরাল স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছি, আশা করি কলেজ প্রশাসন এ বিষয়ে উদ্যোগ নিবেন।
এইচকেআর