আ’লীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টা, ববি শিক্ষার্থী তমালসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের হামলায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আলআমিন মৃধা আহতর ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। বুধবার রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন আহতর বোন মাহামুদা আক্তার। যার মামলা নম্বর ৩৩।
মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র তমালসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর, ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনাটি কলেজের বাহিরে ঘটেছে। যেহেতু মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে সতত্যা পেলে আইনি ব্যবস্থা নিবেন। এ বিষয়ে যদি কোন সহায়তা চান পুলিশ তাদের সহযোগিতা করা হবে।
মামলার বরাতে ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, আসামি তমাল রূপাতলী মাওলাণা ভাসানি সড়কে বসবাস করার সুবাদে সেখানে মাদক সেবনসহ মেয়েদের ইভটিজিং করে। এ বিষয়ে স্থানীয় মিলন রাড়ি নিষেধ করলে তার সাথে তমালের কথাকাটি হয়। পরে লোকজন নিয়ে এসে তমাল মিলন রাড়ির ব্যবহুত মোটর সাইকেল হাউজিংয়ের ঘোষের দিঘির পাড়ে নিয়ে যায়। পরে আলআমিন মৃধা ঐ মোটরসাইকেল আনতে গেলে তমাল ও অজ্ঞাতরা তাকে মারধর করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন বলে মামলায় বলা হয়।
ওসি আনোয়ার বলেন, মামলায় আনা অভিযোগ তদন্ত চলছে। যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করা হবে। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা আল আমিন মৃধা বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে ১২ দিন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার করেন কত্যর্বরত চিকিৎসকরা বলে জানান আহতর বোন মাহামুদা আক্তার।
চিকৎসকের বরাত দিয়ে মাহামুদা আক্তার জানান, তার ভাইয়েরর মাথার বিভিন্ন অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া অনেক অংশে ফুলা রয়েছে। এ কারণে কাশির সাথে তার রক্ত বের হয়। চিকিৎসকরা বিভিন্ন ভাবে পর্যালোচনা শেষে ভাই (আলআমিন) মৃধাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গত সিটি নির্বাচনে একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আল আমিন মৃধার উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তমালের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।
এইচকেআর