সরকারি হাসপাতালে মেলেনা পর্যাপ্ত ওষুধ

ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে সাতদিন আগে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন চাখারের রুবিনা আক্তার (৩৫)। সেই থেকে চিকিৎসা চলছে।
রুবিনার স্বামী শাহাদাত হোসেন জানান, চিকিৎসকরা এসে নানা ওষুধপত্র ও পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা লিখে দিয়ে যাচ্ছেন। বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান ভাইরাক্স নামে একটি ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে ৭০০ টাকা করে। রোজ দুইটা ইনজেকশন নিতে হচ্ছে। এতে সাতদিনে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ মেলে না। দু একটা স্যালাইন পাওয়া যায়। তাও সবাই পায় না।
৫দিন ধরে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন বরিশালের কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুর রহমান (৩০)। তারও এই কয়দিনে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ। ওবায়েদেও মা নাসিমা আক্তার (৫৫) জানান, প্রতিদিন প্লাটিলেট পরীক্ষা বাইরের ল্যাব থেকে করাতে হয়।
চানপুর এলাকা থেকে আসা রিয়াজ (৩৮) নামের এক রোগী জানান, দুদিন আগে ডেঙ্গুজ¦র নিয়ে ভর্তি হয়েছেন তিনি। ট্যাক্সন এবং ওমেনিক্স ইনজেকশন নিতে হচ্ছে রোজ। চার পিচ কিনতে ৬৭০ টাকা লাগছে। আরো কতগুলো লাগবে, জানেন না রিয়াজ। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও কোনো ওষুধ না পাওয়ায় দু:খ প্রকাশ করেন তিনি।
মরিয়ম নামের এক রোগীর স্বজন জানান, ডেঙ্গু চিকিৎসা করাইতে হাসপাতালে আইয়া টাহা সব শ্যাষ। ঋণ হইয়া গেছি মানসের কাছে। হ্যাগো টাহা ক্যামনে দিমু, হেই চিন্তায় মইরা যাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক নার্স জানান, এখানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। সে তুলনায় স্যালাইন বা অন্যান্য ওষুধ এখানে নেই। যা আছে, সেগুলো রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
এদিকে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু রোগী ক্রমে বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে ২৩৮ জন নতুন রোগী সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। এসব হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৯৭০ জন। এর মধ্যে শেরেবাংলা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ২৫৭ জন। এছাড়া এ পর্যন্ত এই জ¦রে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আরজেএন