মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: বরিশালে তিনজনের যাবজ্জীবন

বরিশালে ৯ বছরের শিশু তন্নিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইয়ারব হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, উত্তর সাগরদী নবগ্রাম রোড এলাকার আব্দুস ছালাম হাওলাদারের ছেলে ইমাম হোসেন হাওলাদার, একই এলাকার মো. মতিউর রহমান খানের ছেলে মো. শাহরিয়া খান শাকিল ও মৃত আবদুল আজিজ খানের ছেলে মো. বাছেদ খান ওরফে বাঘা। এর মধ্যে মো. বাছেদ খান ওরফে বাঘা পলাতক। এর মধ্যে ঘটনার সময় ইমাম হেসেন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তার বিচার হয় শিশু আদালতে। নিহত তন্নি বরগুনার লাকুরতলা এলাকার টুনু পালোয়ানের মেয়ে। তার পরিবার নবগ্রাম রোড খান সড়কের খালেক খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিল। তন্নি স্থানীয় ফজলে উলুম মাদ্রাসার নার্সারী শ্রেনীর ছাত্রী ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হুমায়ুন কবির।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মা সুমি বেগমের সঙ্গে ওষুধ কিনতে যায় শিশু তন্নি। সেখান থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অটোযোগে নবগ্রাম রোডের যুবক হাউজিংয়ের সামনে নামে। সেখানে মা সুমি বেগম মেয়ে তন্নিকে তার বাবা টুনু পালোয়ানকে ডেকে আনতে পাঠান। এরপর থেকেই তন্নি আক্তার নিখোঁজ হয়।
পরদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নবগ্রাম রোডের খানসড়কের আল আমিনের বাড়ির ডোবা থেকে তন্নির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তন্নির বাবা টুনু পালোয়ান বাদী হয়ে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক মশিউর রহমান ২০১৭ সালের ২২ জুন ওই ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলার এক আসামি ইমাম হোসেন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তার বিচার হয় শিশু আদালতে এবং অপর দুই আসামির বিচার হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। ২০২০ সালে ইমাম প্রাপ্ত বয়স্ক হয়। ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ১৭ জনের সাক্ষ্য-প্রমানে শিশু তন্নিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ৩ আসামির সকলকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদন্ড ভোগ করতে হবে বলে জানান বেঞ্চ সহকারি হুমায়ুন কবির।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশু তন্নির বাবা রিক্সা চালক টুনু পালোয়ান ও রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌশুলি ফয়জুল হক ফয়েজ।
এইচকেআর