বখশিস ছাড়া ট্রলি ও হুইল চেয়ার মেলে না শেবাচিমে

আয়া-ওয়ার্ডবয়দের বখশিস ছাড়া মুমূর্ষু রোগীদের জন্য ট্রলি ও হুইল চেয়ার মেলে না বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফলে তাদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। অথচ বিনামূল্যে সরকারি এসব সেবা পাওয়ার কথা রোগীদের।
শনিবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে আয়া-ওয়ার্ডবয়দের নানা অনিয়মের চিত্র চোখে পড়ে। দিনের পর দিন কর্তৃপক্ষের সামনে রোগী কিংবা তাদের স্বজনদের কাছ থেকে এমন জবরদস্তি মূলক ‘বখশিস’ আদায়ের ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চিকিৎসা কেন্দ্রে নামমাত্র বেতনে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে চতুর্থ শ্রেণির কমর্চারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অথচ টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে প্যাথলজি টেস্ট, চিকিৎসকের সিরিয়াল সবখানেই তারা দায়িত্ব পালন করছেন। বেতন-ভাতা কম হওয়ায় কমর্চারীরা অনিয়ম ও দুনীর্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন।
স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি আছেন মঠবাড়িয়া থেকে আসা মেহেদি হাসান। তার স্ত্রী ফারজানা ববি জানান, হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা দেন। এক্ষেত্রে আয়া এবং ওয়ার্ডবয়দের সহায়তা নেয়ায় ৩০০ টাকা বখশিস দিতে হয়েছে। শুধু মেহেদি হাসান নয় সবার কাছ থেকে অর্থ নেয়া এক ধরনের অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে।
অন্যদিকে আগৈলঝাড়া উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রবীন হাসপাতালে আসেন দু’দিন আগে। তখন অ্যাম্বুলেন্স থেকে ট্রলিতে জরুরি বিভাগে নিতে ১০০ টাকা নেন এক কমর্চারী। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বেডে পৌঁছায়ে দিতে দাবি করেন আরও ২০০ টাকা।
রবিনের মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, এখানে ভর্তির পর এক্সরেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ছেলেকে যতবার বেড থেকে নির্ধারিত কক্ষে নিয়ে যেতে হয়েছে, ততবারই ১০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। আবার অস্ত্রপচার কক্ষে স্বজনদের প্রবেশ নিষেধ থাকায় ওয়ার্ড বয়দের সহায়তায় ওটিতে নিতে ও সার্জারি পরবর্তী পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে বের করতে সমপরিমাণ টাকা দিতে হয়েছে।
এমনকি রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ট্রলিতে লাশ বহনের ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দেয় না এ কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে নাম না প্রকাশ করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, হুইলচেয়ার ও ট্রলি সেবা দিয়ে জোর করে অর্থ আদায়ের মতো হয়রানি ও অনিয়ম নিত্যদিনের ঘটনা। এছাড়া লাইনে না দাঁড়িয়ে রোগীর টিকিট সংগ্রহ করে দিচ্ছেন আনসার সদস্যরাও। ওয়ার্ডবয়রা সিটের বন্দোবস্ত এবং দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কাজে সাহায্য করছেন। বিনিময়ে রোগীরদের কাছে বকশিস দাবি করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রলিম্যান ৪ জন থাকলেও অস্থায়ী রয়েছেন ২৮ জন। এছাড়া আয়া ৮০ জন স্থায়ী এবং অস্থায়ী কর্মরত আছেন ৮০ জন ।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ইনডোর-আউটডোরে প্রায় ৬০০০ হাজার রোগী চিকিসা সেবা নিচ্ছেন। রোগীর ক্ষেত্রে হাসপাতালের জনবল অনেক কম। স্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণির কমর্চারীর হাতে গোনা।
তিনি বলেন, এমন অভিযোগে দুই মাস আগে অস্থায়ী ৮০ জনকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী ১০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে বদলি করা হয়। প্রতিদিনই আমাদের মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।
আরজেএন