বর্ষণ কমলেও কাটেনি নগরীর জলাবদ্ধতা

টানা তিনদিন পর বরিশালে কমেছে অতিভারী বর্ষণ। এতে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হলেও সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে টানা তিনদিন পর মানুষের উপস্থিতির সাথে বেড়েছে যানবাহনের চাপ।
তবে কাটেনি জলাবদ্ধতার ভোগান্তি। নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ বটতলা সড়কসহ বেশিরভাগ এলাকার রাস্তাঘাট এখনো হাঁটুসমান পানির নিচে। পানি জমে থাকায় কোনটা রাস্তা আর কোনটা খাল তা বোঝা দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাগুলোর সড়কে মঙ্গলবারও জাহি জাল ও মশারি দিয়ে মাছ ধরতে দেখা গেছে স্থানীয়দের।
ফলে প্রধান সড়ক ছাড়া এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে চলাচল করছে না যানবাহন। আবার চললেও যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া। এমন পরিস্থিতিতে গৃহবন্দী হয়ে আছে নগরীর কয়েক হাজার পরিবার।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর বটতলা থেকে হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা সড়ক, বটতলা আদম আলী হাজির গলি, অক্সফোর্ড মিশন রোড, করিমকুটির, কলেজ এভিনিউ, গোরস্থান রোড, বগুড়া রোড, বিএম স্কুল সড়ক, রূপাতলী হাউজিং, ধানগবেষণা সড়কের খ্রিস্টান কলোনী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপাদা কলোনী, পার্শ্ববর্তী শেবাচিম হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি স্টাফ কোয়ার্টার, কালুশাহ সড়ক, রসুলপুর, মোহাম্মদপুর, মুন্সিগ্যারেজ, কাজিপাড়া এবং কাউনিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এসব স্থানের বেশ কিছু সড়কে পানি জমে আছে।
এর মধ্যে বটতলা, কলেজ এভিনিউ এবং গোরস্থান রোড এলাকার সড়কগুলোতে হাঁটুর ওপর পানি জমে আছে। বটতলা দুই লেন সড়কের একলেনে যানবাহন চললেও অপর লেনে বেশি পানি জমে থাকায় যানবাহন চলছে না।
নগরীর গোরস্থান রোডের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ‘মৌসুমের রেকর্ড বৃষ্টিতে পানি জমে মানুষের ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এ কারণে মঙ্গলবার এলাকার বেশিরভাগ টিনের, আধাপাকা এবং নিচু ঘরগুলোতে চুলায় আগুন জ্বলেনি। রাতে স্থানীয়দের উদ্যোগে খাবার রান্না করে এসব ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন এলাকার কিছু যুবক।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক হুমায়ুন কবির জানান, ‘গত ৭ আগস্ট বরিশালে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৫৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
তিনি বলেন, ‘৭ আগস্ট বিকাল ৩টার পর থেকেই অতিভারী বর্ষণ কমতে শুরু করে। তবে এখনো পুরোপুরিভাবে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। মঙ্গলবারও সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানান আবহাওয়া অফিসের এই পর্যবেক্ষক।
আরজেএন