প্রবল বর্ষণে পানির নিচে রোপা আমনের বীজতলা

আষাঢ়ে তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও শ্রাবণ মাসে গত রোববার ও সোমবারের ভারী বৃষ্টিপাতে ডুবেছে বরিশাল অঞ্চলের ক্ষেতখামার। জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙা বাঁধের অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে রোপা আমন এবং আমনের বীজতলাসহ অন্যান্য ফসল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ এসব জমির ফসল পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলার ওলানকাঠী গ্রামের কৃষক এহসান হোসেন জানান, গত একমাস আগে তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে রোপা আমনসহ বিভিন্ন জাতের ৫০ কেজি ধানের বীজতলা চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু গত দুদিনের প্রবল বর্ষণে তাঁর ধানের চারা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এহসান।
একই অভিযোগ করেছেন আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলসুরি গ্রামের কৃষক কমল কৃষ্ণ। তিনি জানান, ৩২ শতাংশ জমিতে রোপা আমনের ৮ কেজি বীজতলা রোপণ করেছেন। কিন্তু বেড়িবাধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে ক্ষেতখামার সব তলিয়ে গেছে। এখন আমন আবাদ কীভাবে হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।
উজিরপুর উপজেলার শিকারপুরের নারী কৃষক মাসুদা বেগম বলেন, দুই জ্যৈষ্ঠ জমিতে ৮৫ কেজি আমনসহ চার প্রকারের বীজ তলা রোপণ করেছেন। কিন্তু দুদিনের ভারী বৃষ্টির পানিতে চারা তলিয়ে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গত রোববার ও সোমবারের ভারী বৃষ্টিতে কৃষক মাঠে নেমে পড়েছে। জেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ২৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান। এছাড়া এরি মধ্যে ১২ হাজার ১৯১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ শুরু হয়ে গেছে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুরাদুল হাসান।
তিনি জানান, আষাঢ় এবং শ্রাবণের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত জেলায় তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় একদিকে যেমন দাবদাহ বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে আমনের চারা রোপণও দেরি হতে থাকে। জেলায় ৮ হাজার ৭৭৬ হেক্টর বীজ তলা রয়েছে। তবে এর মধ্যে ১০ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা রোপন করা হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা মুরাদুল হাসান জানান, বৃষ্টিতে রোপা আমান চাষাবাদে আীর্শবাদ হলেও ফসলি চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রোপা আমনের চারা লাগানো সম্ভব হলে ফলনে তেমন সমস্যা হবে না বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুরাদুল হাসান।
আরজেএন