রূপাতলীতে গভীর রাতে আ’লীগ নেতাকে নির্মমভাবে পেটালো ববি শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীর নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন আল আমিন মৃধা নামের এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আল আমিন মৃধা ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গত সিটি নির্বাচনে একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন।
এছাড়া হামলাকারীদের মধ্যে একজনের নাম পরিচয় জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র তমালের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার অপর যুবক রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা মিলন রাঢ়ী জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একছাত্রী রাত ১১টার দিকে রূপাতলী হাউজিংয়ে বম্বে প্লাজা নামক ভবনের পাশে দোকানে চা পান করছিলেন। এসময় স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রির বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ তোলেন ওই ছাত্রী। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হচ্ছিল। আমি গিয়ে ওই মেয়েটির কাছে রাজমিস্ত্রিকে ক্ষমা চাইতে বললে সে ক্ষমা চেয়ে ঘটনাটি সমাধান করা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ওই ছাত্রী ফোন করে তার সহপাঠিদের ডেকে আনে। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়া যুবকেরা আমার সাথে দুর্ব্যবহারের এক পর্যায়ে মারধর শুরু করে।
আমি প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড় দিলে তারা আমাকে চোর বলে ধাওয়া করে। ঘটনাটি আমি ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে জানালে ঘটনাস্থলে ফেলে আসা আমার মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের জন্য সহযোগিতা চাই।
এ ঘটনার পর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আল আমিন মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়া যুবকদের কাছে মোটরসাইকেলটি ফিরিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু মিলন রাঢ়ীকে না দিলে মোটরসাইকেল দিবে না বলে জানায় তারা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায় আওয়ামী লীগ নেতা আল আমিন মৃধার ওপর হামলা করে তারা। বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় তাকে। রাতেই আল আমিনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, শনিবার দুপুরের দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় পড়ে আছেন আল আমিন মৃধা। তার পাশে বসে কান্না করছেন অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে নির্মম এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। তাছাড়া এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি শনিবার দুপুরেই রূপাতলী এলাকা থেকে কেউ একজন আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। আমি তাদের থানায় এসে মামলা করার জন্য বলেছি। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আলম বলেন, ‘ভিন্ন মাধ্যমে শনিবার দুপুরের দিকে আমি খবরটি জেনেছি। তবে সেখানে আদৌ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন কিনা সে বিষয়টিও আমি নিশ্চিত নই। তাছাড়া এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনা। আর বাইরের কোন ঘটনার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিবে না। ভুক্তভোগী চাইলে থানায় অভিযোগ দিতে পারে। পুলিশ আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আইনের মধ্যে থেকে তাদের সহযোগিতা করবো।
এর আগেও হাউজিং এলাকায় রাতের আঁধারে একটি বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সেই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না এলাকাবাসী। তবে এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
আরজেএন