প্রায় একমাস ধরে রূপাতলী এলাকায় টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নগরীর গড়িয়ারপাড় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত চার লেন সড়ক উন্নয়নে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বিটিসিএল’র টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা। মাটি খুড়ে সড়ক সংস্কারের ফলে কাটা পড়েছে টেলিফোনের অসংখ্য সংযোগ। এর ফলে ১৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে সরকারি টেলিযোগাযোগ সেবা বঞ্ছিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। যার মধ্যে রয়েছে সরকারি এবং জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানও।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংযোগ মেরামতের জন্য বিটিসিএল’র সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। আর বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সড়ক বিভাগের চার লেনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, ‘বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গড়িয়ারপাড় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। সড়ক বর্ধিত কারণের জন্য মূল সড়কের দুই পাশে রেকারের সাহাজ্যে মাটি খননের কাজ চলছে।
এরই মধ্যে নগরীর গাড়িয়ারপাড় থেকে সিএন্ডবি সড়কের কিছু কিছু অংশে মাটি খোঁড়ার কাজ শেষ হয়েছে। বতর্মানে নগরীর রূপাতলী এলাকার অংশের কাজ চলমান রয়েছে।
এদিকে, ‘স্কেভেটর দিয়ে মাটিখোড়ার কারণে মাটির ভূগর্ভস্থ বিটিসিএলের টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগের তারও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
নগরীর রূপাতলীতে অবস্থিত ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘গত প্রায় ২০ দিন ধরে তাদের এই দপ্তরের সরকারি টেলিফোন নম্বরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন। ফলে গ্রাহক সেবা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা গুরুত্ব না দিয়ে নতুন করে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে সংযোগ নিতে বলছে। কিন্তু সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাইলেই সেটা করা সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে বিটিসিএল বরিশাল এর ম্যানেজার (সিটি) মো. শামীম ফকির বলেন, ‘গড়িয়ারপাড় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য আমাদের টেলিফোন সংযোগগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ইতিপূর্বে কাশীপুর এলাকায় ১৫-২০টির মতো সংযোগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সেগুলো আমরা সংস্কার করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আবার রূপাতলী এলাকায় একইভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ সংযোগের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত হবে বলে দাবি করেন তিনি।
এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘রূপাতলী এলাকায় চার লেনের কাজ করতে গিয়ে আমাদের একটি কেবিনেট বক্স ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটি ভেঙে ফেলার বিষয়ে আগেভাগে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। জানালে আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। এতে ক্ষতি কম হতো। এতে এখন গ্রাহক সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। তবে আমরা গ্রাহকদের আপাতত জি-পন (ফাইবার অপটিক্যাল) সংযোগ নিতে বলেছি।
বিটিসিএল’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ‘সড়ক উন্নয়নের ফলে টেলিফোন সংযোগের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা মেরামতের জন্য সড়ক বিভাগে প্রায় তিন লাখ টাকার একটি প্রকল্প জমা দিয়েছিল বিটিসিএল। কিন্তু সড়ক বিভাগ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই বিটিসিএলকেই ক্ষতিগ্রস্থ সংযোগগুলো মেরামত করতে হচ্ছে। এজন্য বার বার ক্ষতি এড়াতে সড়ক উন্নয়ন কাজ হওয়ার অপেক্ষা করছে বিটিসিএল। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে টেলিফোন সংযোগগুলো সংস্কার করবে দপ্তরটি।
আরজেএন