১১ দিন ধরে তালাবদ্ধ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়

নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল দখল নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার ১১ দিনেও কোন সমাধান হয়নি। তাই বাসর্টামিনালে নিরাপত্তায় দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই তালাবদ্ধ শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শ্রমিকরা। এ নিয়ে তাদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, নির্বাচনের আগে নেতাদের কাছে শ্রমিকদের কদর বাড়ে। আর ভোট শেষ হলে শ্রমিকদের খোঁজ খবর নেয়ার সময় থাকে না। এখন আবার নির্বাচন আসছে। তাই শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে নথুল্লাবাদ বাসর্টামিনালে গিয়ে দেখা যায়, বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন (বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস) শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় তালাবদ্ধ। শ্রমিকরা বাস টার্মিনাল ও তাঁর আশপাশের দোকানগুলোতে বসে খোশগল্প করছেন।
জানা গেছে, বর্তমানে বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নে প্রায় ৪,৮০০ শ্রমিক রয়েছে। তারা ঢাকাগামী পরিবহন থেকে লোকাল বাসে চালক, হেলপার, সুপারভাইজার পদে কর্মরত রয়েছেন।
কালাম খান নামের এক শ্রমিক জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাসে ডিউটি করে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে সময় কাটাতাম। কিন্তু গত দশদিন ধরে চায়ের দোকানে বসে সময় কাটাতে হচ্ছে।
এছাড়া নয়ন শরীফ, মিলন হাওলাদারসহ একাধিক শ্রমিকরাও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁরা বলেন, মূলত নিজের আধিপত্য বিস্তার করতেই সংঘর্ষে লিপ্ত হয় নেতারা। এতে আমাদের মতো সাধারণ শ্রমিকদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।
শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক হানিফ খাঁ জানান, এক পক্ষের নেতারা অবৈধভাবে শ্রমিক ইউনিয়ন দখল নিতে চাচ্ছেন। তাদের কারণে ইউনিয়ন আজ তালাবদ্ধ। সারাদিন পরিশ্রম শেষে শ্রমিকরা এখন ইউনিয়নে প্রবেশ করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শাহাদাত হোসেন লিটন জানান, আগষ্ট মাস ও নিবার্চনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের জন্য গত রোববার ইউনিয়ন খুলতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। বিষয়টি পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকার্তদের জানানো হলে তাঁরা খুলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা তাদের কার্যালয় ব্যবহার করতে না পেরে বাহিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ভিতরে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, নথুল্লাবাদ বাসর্টামিনালে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তনাধীন থাকায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই মহানগর শ্রমিক লীগের নতুন কমিটি বাতিল ও নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে পৃথক কর্মসূচি চলাকালে ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর এক পক্ষ শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখে।
আরজেএন