কাশিপুর বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছুরিকাঘাতে আহত ব্যক্তিও মারা গেছেন

কম দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে আহত আরও এক সবজি বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম আলমগীর হোসেন (৪০)। রোববার রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন ও নিহতের ভাগ্নে শহিদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আলমগীর নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিয়াপাড়া দিঘিরপাড় এলাকার তিনু মাঝির ছেলে এবং কাশিপুর বাজারের সবজি বিক্রেতা ছিলেন।
এর আগে গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে নগরীর কাশিপুর বাজারে কম দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছিলেন ভ্রাম্যমান সবজি বিক্রেতা ও সাবেক সেনা সদস্য সোহেল রানা। এ নিয়ে কাশিপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে দ্বন্দ্ব হয় তার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাজারের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ তিনশত টাকায় বিক্রি করছিল। তবে সোহেল রানা ভ্যান গাড়িতে মাইকিং করে ১২০ থেকে ২০০ টাকায় মরিচ বিক্রি করে। এতে বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়।
এর জের ধরে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে সোহেল রানাকে বেধরকভাবে মারধর করে। তখন সোহেল আত্মরক্ষায় ভ্যান গাড়িতে থাকা বস্তা কাটার ছুরি দিয়ে তাদের ওপর এলোপাথারী কোপাতে শুরু করে।
এসময় ছুরিকাঘাতে সবজি বিক্রেতা কামাল হোসেন (৩৮), আলমগীর হোসেন (৪০), তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) ও অপর ভাই জয়নাল আবেদীন (৩৫) এবং আব্দুল মালেক (৬০) রক্তাক্ত জখম হয়।
তাদেরকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক কামাল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এছাড়া ঘটনার সময় বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা ছুরিকাঘাতকারী সোহেল রানাকে গণপিটুনি দিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে আহতাবস্থায় তাকেও ভর্তি করা হয় শেবাচিম হাসপাতালে।
অভিযুক্ত সোহেল রানা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল ছিলেন। তিনি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সিংহেরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মৃত সোনামুদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইছাকাঠি সড়কের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন সোহেল।
এদিকে, আহতদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের অবস্থার অবনতি ঘটায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীরের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এর আগের হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বিষয়টি সংযুক্ত হবে। নতুন করে আর কোন মামলা হবে না। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, ‘নিহত কামালের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতে এয়ারপোর্ট থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ছুরিকাঘাতকারী সোহেল রানাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সোহেল বর্তমানে পুলিশী প্রহরায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আরজেএন