ভোলার গ্যাস ব্যবহারের দাবিতে মাসব্যাপী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু

ভোলার গ্যাস ঢাকায় সরবরাহের চুক্তি বাতিল করে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যবহারের দাবিতে বরিশালে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে। নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে রোববার দুপুরে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
ভোলার গ্যাস রক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলের নাগরিক আন্দোলন, বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এসময় ইন্ট্রাকো কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে ভোলার গ্যাসে দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পকারখানা ও আবাসিকখাতে দেওয়ার দাবি জানান নেতারা।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, ভোলার গ্যাস রক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলের নাগরিক আন্দোলন, বরিশাল জেলা আহ্বাবায়ক অধ্যাপক শাহ আজিজ খোকন ও সমন্বয়কারী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, জেলা বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিপেন্দ্র নাথ বাড়ৈ, জেলা ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহ সভাপতি জে.কে মুকুল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ভোলার গ্যাস দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য সরবরাহের ব্যবস্থা না করে ঢাকার শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে চুক্তি করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালেও প্রধানমন্ত্রী বরিশালে সমাবেশ করে দক্ষিণাঞ্চলে ভোলার গ্যাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারপরও ইন্ট্রাকো কোম্পানির সঙ্গে করা এই চুক্তি দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।
ভোলার গ্যাস দিয়ে বরিশালসহ অনুন্নত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন দীর্ঘদিনের দাবি। এই চুক্তি দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নকে বহুগুণ পিছিয়ে দেবে। তাই অবিলম্বে ইন্ট্রাকোর সাথে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোলাসহ বরিশাল বিভাগের কলকারখানা ও আবাসিক খাতে সরবরাহের দাবি জানাচ্ছি।
অবিলম্বে দাবি মেনে নেওয়া না হলে ভোলা অভিমুখে লংমার্চ, হরতালের মত কর্মসূচি করে জনগণের অধিকার আদায় করে ছাড়বো। এজন্য বক্তারা আগস্ট মাস জুড়ে বরিশালের ৬টি জেলায় লক্ষাধিক স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ভোলার গ্যাস দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যবহারের দাবিতে জনগণকে সংঘবদ্ধ করে আরও কঠোর আন্দোলনের দিকে অগ্রসর হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলমান এই স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচিতে ছাত্র-পেশাজীবী-গণমানুষের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণে প্রায় সহস্রাধিক স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়। এই আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে গণস্বাক্ষর কার্যক্রম চলছে।
এইচকেআর