ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা ভোলায় ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার সাড়ে ৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, দিনক্ষণ ঠিক হয়নি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী  কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে: এমপি হাফিজ ইব্রাহিম  ‘ক্যাশলেস বরিশাল’গড়তে বাংলা কিউআর সম্প্রসারণে উদ্যোগ ববি উপাচার্যের সাথে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আনোয়ারুল হক তারিনের সৌজন্য সাক্ষাৎ মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মাদ্রাসা শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, সাময়িক বরখাস্ত
  • শুধু দরজা লাগিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা বিল নিয়েছে ঠিকাদার

    শেবাচিম হাসপাতালে লিফট স্থাপন নিয়ে কেলেংকারি

    শেবাচিম হাসপাতালে লিফট স্থাপন নিয়ে কেলেংকারি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লিফট কেলেংকারীর অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র কার্যক্রমের প্রায় চার বছর শেষ হলেও এখনো বসানো হয়নি একটি আধুনিক লিফট। অভিযোগ উঠেছে, শুধু দরজা লাগিয়েই লিফট স্থাপন কাজের বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

    নতুন করে ওই লিফটি আর স্থাপন হবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যে। তার ওপর লিফটের পরিবর্তে দরজা লাগিয়ে রাখার কারণে দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে পাশের আরেকটি লিফট। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    যদিও গণপূর্ত বিভাগ বলছে, ‘বৈশ্বিক করোনা মহামারিসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে লিফট স্থাপন করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির জামানত আটকে রাখা হয়েছে। সচল লিফট বুঝে না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত মেডিকেল ই-এম উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম।

    গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘২০১৯ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও পুরাতন ভবনে পৃথকভাবে ৬টি লিফট স্থাপনে দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগ। লিফট সরবরাহ এবং স্থাপনের কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। তারা ২০২০ সালে লিফট স্থাপনের কাজ শুরু করে। এর মধ্যে ৫টি লিফট স্থাপন হলেও বাকি একটি লিফট আদৌ চালু হয়নি।

    জানা গেছে, ‘৬টি লিফটের মধ্যে ২টি আধুনিক লিফট স্থাপনের কথা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দরপত্র অনুযায়ী ওই লিফট সরবরাহ ও স্থাপন মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৯৪ কোটি টাকা। এ কাজের সিকিউরিটি পারফরমেন্স হিসেবে জামানত রাখা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা।

    গণপূর্ত বিভাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড হাসপাতালের মাঝের ই-ব্লকের ৫ নম্বর লিফটি স্থাপন করেনি। লিফটির পরিবর্তে সেখানে শুধুমাত্র গেট লাগিয়ে দিয়েই সব বিল তুলে নিয়েছে। ভেতরে কোন প্রকার মেশিনারী নেই। ওই লিফটের কেবিনের নিচের অংশ আটকে রাখার কারণে পাশে থাকা ৬ নম্বর লিফটি গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে রোগী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

    এর কারণ উল্লেখ করে লিফট পরিচালনা এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘হাসপাতালের নতুন এবং পুরাতন ভবন মিলিয়ে মোট ১৬টি লিফট রয়েছে। যার মধ্যে পুরানো ভবনে লিফট ১০টি। এর মধ্যে সচল মাত্র ৬টি। বাকিগুলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়শই বন্ধ থাকে। যেগুলো সচল তাও অফিস সময় ব্যাতিত চলে ২-৩টি লিফট।

    গত চার বছরেও লিফট স্থাপন না করার বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বরিশালে তাদের লিফট তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা লিফট স্থাপন না করার কথা স্বীকার করলেও নিজেদের নাম পরিচয় জানাতে রাজি হননি।

    তবে লিফট স্থাপন না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল ই-এম উপবিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, ‘মাঝে করোনার কারণে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ ছিলো। পরবর্তীতে পুরানো ভবনে দুটি লিফটই লাগানো হয়েছে। তবে একটি লিফটের ছোট একটি যন্ত্র না থাকায় সেটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, ‘যেই যন্ত্রটির প্রয়োজন সেটা বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। এটি সুইজারল্যান্ড থেকে আমদানি করতে হয়। কোম্পানির সাথে কথা হয়েছে, তারা ওই যন্ত্রটি সরবরাহের চেষ্টা করছে বলে আমাদের জানিয়েছে।

    লিফট স্থাপন কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল তুলে নেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির কাজের জামানত (সিকিউরিটি পারফরমেন্স) বাবদ ৫০ লাখ টাকা জমা রয়েছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করে জামানত ফিরে পাবে না। তবে খুব শিঘ্রই ওই লিফটি চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    এদিকে, ‘শেবাচিম হাসপাতালে লিফট স্থাপন না করে বিল তুলে নেয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কয়েকবার তার সরকারি কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ