গৌরনদীতে দুই বাসের সংঘর্ষ পুকুরে ইলিশ পরিবহন, আহত ২৫

ঝালকাঠিতে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ার তিনদিনের মাথায় এবার বরিশারের গৌরনদীতে দূরপাল্লার দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় ইলিশ পরিবহনের একটি বাস উল্টে রাস্তার পাশে পুকুরে পড়ে যায়।
এই ঘটনায় দুই পরিবহনের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠি বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে হাবিব সরদারের দীঘির পাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দুর্ঘটনা কবলিত একটি বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম রসুল জানান, ‘বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে আশোকাঠি বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে বিপরিত দিক থেকে আসা ঢাকা থেকে বরিশালগামী ইলিশ পরিবহনের একটি এসি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এসময় ইলিশ পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে রাস্তার পাশে পুকুরে পড়ে যায় এবং শ্যামলী পরিবহনের বাসটি রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে উভয় বাসের অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়।
আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে ১৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইলিশ পরিবহনের যাত্রী বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইয়ের বাসিন্দা সুজন জানান, মহাসড়কে একটি থ্রি-হুইলারকে অতিক্রম করছিল ইলিশ পরিবহন। এসময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা শ্যামলী পরিবহনের সঙ্গে ইলিশ পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বহনকারী ইলিশ পরিবহনটি সংঘর্ষে উল্টে রাস্তার পাশে পুকুরে পড়ে যায়। তবে পুকুরটিতে পানি কম থাকায় বাসের একাংশ পানির ওপরে ছিল। তাই যাত্রীরা সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। যদিও দুই বাসের সংঘর্ষের জন্য দুই বাসের চালককেই দায়ি করছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি দুটি পরিবহনই অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা বিপুল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইলিশ পরিবহনের এসি বাসটি অর্ধ নিমজ্জিত অবস্থায় পেয়েছি। বাসের মধ্যে থেকে নারী ও শিশুসহ ১৬ জনকে আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। তবে তার আগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বেশি কয়েকজন যাত্রী উদ্ধার হয়েছে। তাদেরকেও হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত না হওয়ায় আহত অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম রসুল জানান, ‘ঘটনার পর থেকেই চালক ও সুপারভাইজার পালিয়ে যায়। যে কারণে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এমনকি দুটি বাসে কতজন যাত্রী ছিল তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কোচটি ডোবা থেকে উত্তোলনের জন্য চেষ্টা চলছে। ডোবা থেকে উঠানোর পর তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আরজেএন