রূপাতলী খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্ট ওভারটাইম না করায় শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগ

ওভারটাইম কাজ না করায় রেস্টুরেন্ট শ্রমিককে নির্যাতন করে দোকান থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মালিকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শ্রমিকের নাম মো. নাঈম। দোকান থেকে বের করে দেয়ার সময় তার পাওয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি ওই শ্রমিকের। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খাবারবাড়ি রেস্টুরেন্টে।
এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মো. নাঈম (১৯) নামের ওই শ্রমিক কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে দেয়া অভিযোগে খাবারবাড়ি রেস্টুরেন্টের মালিক বাদশা ও সোহেলকে অভিযুক্ত করেছেন।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হোটেল শ্রমিক নাঈম জানিয়েছেন, ‘তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে রূপাতলী খাবারবাড়ি রেস্টুরেন্টে ফালুদা তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন সময় কারণে অকারণে নানান অজুহাত তুলে আমিসহ অন্য কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং নির্যাতন করে।
তার দাবি, ‘দৈনিক ৪৫০ টাকা মজুরিতে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। প্রতিদিনের ন্যায় রোববার রাত ১০টায় আমি কাজ শেষ করে বিশ্রাম নেয়ার জন্য যাচ্ছিলাম। এসময় একজন কাস্টমার এসে ফালুদার অর্ডার নিতে বলে। আমি তাকে আমার ডিউটির সময় শেষ বলে জানিয়ে দেই। ওই কাস্টমার বিষয়টি হোটেল মালিকদের জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়।
পরে আমাকে টেনে হিচড়ে রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় তলায় আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায় রেস্টুরেন্ট মালিক বাদশা এবং সোহেল। সেখানে আমাকে নির্যাতনের পর রাতেই রেস্টুরেন্ট থেকে বের করে দেয়। এমনকি এসময় আমার পাওয়া দুই হাজার টাকাও বুঝিয়ে দেয়নি।
নাঈমের অভিযোগ, এর আগেও কয়েকজন শ্রমিককে সেখানে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়েছে। এবার তারা আমাকে পিটিয়েছে। আমি এর সুবিচার পেতে সোমবার দুপুরে কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ করেছি।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে, শ্রম অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ওসমান গনি বলেন, ‘কোন শ্রমিক বা কর্মচারী ভুল করতেই পারে। সেজন্য তার গায়ে হাত তোলার অধিকার দোকান মালিকের নেই। এটা করে থাকলে সেটা অবশ্যই অন্যায়।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বরিশালের উপমহাপরিদর্শক (চ: দা:) এইচএম শাহাদাত বলেন, ‘শ্রমিক মজুরির বিনিময়ে কাজ করে। সে ভুল করলে তাকে বুঝাতে হবে। বড় ভুল করলে তাকে ভিন্ন উপায়ে চাকরিচ্যুত করা যেতে পারে। সেজন্য গায়ে হাত তোলার কোন সুযোগ নেই। নির্যাতনের শিকার শ্রমিক অভিযোগ করলে আমরা তার ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবো।
খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্টের মালিকানা অংশিদার অভিযুক্ত বাদশা বলেন, নাঈম আমাদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে। এজন্য দু-একটি চর থাপ্পর দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমাদের এখানে যারাই ওভার টাইম ডিউটি কওে, আমরা তাদের মজুরি দেই।
বাদশা দাবি করেন, ‘নাঈমকে কাজ থেকে বের করে দেয়া হয়নি। সে নিজে থেকেই আজ (সোমবার) কাজে আসেনি। তার জায়গায় নতুন লোকও নেইনি। থানায় যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
আরজেএন