ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • জাপানে ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে শপিংমল, বহু হতাহতের শঙ্কা ভোলায় ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার সাড়ে ৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনে নির্দেশ হাইকোর্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, দিনক্ষণ ঠিক হয়নি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী  কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে: এমপি হাফিজ ইব্রাহিম  ‘ক্যাশলেস বরিশাল’গড়তে বাংলা কিউআর সম্প্রসারণে উদ্যোগ ববি উপাচার্যের সাথে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আনোয়ারুল হক তারিনের সৌজন্য সাক্ষাৎ মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মাদ্রাসা শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, সাময়িক বরখাস্ত
  • রাস্তায় বেড়িয়ে বেঁচে ঘরে ফিরতে চাই

    রাস্তায় বেড়িয়ে বেঁচে ঘরে ফিরতে চাই
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বেপরোয়া গতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে গিয়ে শিশুসহ ১৭ যাত্রী নিহত হয়েছে। গত শনিবার ঝালকাঠিতে স্বেচ্ছাচারী চালকের খামখেয়ালিতেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আহত যাত্রীরা জানিয়েছেন। 

    প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় এভাবেই মানুষ মরে। অথচ এতো মানুষের করুণ মৃত্যুর জন্য সরকার অথবা পরিবহন সেক্টরের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে তেমন কোনও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা যায়? যায় না। যদিও আজকাল অবাধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে দেশের সড়কপথে প্রতিদিন যে পাখির মতো মানুষ মারা যাচ্ছে, নিমিষেই সেইসব মৃত্যু সংবাদ দৈনিক পত্রিকা, টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে অন্য মানুষের কাছে পৌঁছেও যাচ্ছে। এতে কিছু মানুষের মধ্যে হয়তো কিছুটা হা-হুতাশ তৈরি হয়, কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। টক শোতে জ্বালাময়ী তর্ক-বিতর্ক চলে। আবার দু-এক দিনেই মানুষের সব ক্ষোভ-বিক্ষোভ-বক্তৃতা থেমে যায়। 

    ফলে এ ব্যাপারে লেখালেখি করে খুব একটা কাজের কাজ কিছুই হবে না, জানি। তবুও কিছু মানুষের মধ্যে মানবতা বলে কিছু তো থাকে। সেই তাগিদেই কখনো কখনো মানুষকেই মানুষের পাশে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। হয়তো অনেকেরই মনে আছে, সন্তান সম্ভবা একজন মা রাস্তা পার হতে গিয়ে, বাস যখন সেই মাকে চাপা দিয়ে যায়। গর্ভবতী সেই মায়ের পেট ছিঁড়ে তখন যে নবজাতকের জন্ম হয়েছিল। মৃত মায়ের পাশে রাস্তায় পড়ে থাকা বেঁচে যাওয়া সেই নবজাতকের জন্য এবং নবজাতকের মৃত মায়ের জন্য নিজের অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করতে হয়। কারণ, প্রতিদিন ঘটে যাওয়া বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর শিরোনাম পড়ে বুকের ভেতর যে কষ্ট জমা হয়, মানুষের মনের সেই কষ্টেরাই আমাদের লেখা ও প্রতিবাদের প্রেরণা জোগায়। এতে হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনই আবেদন সৃষ্টি করবে না। তবুও আমি ও আমরা যেন সকলেই সড়কে চলাচলের নিরাপত্তা চাই। রাস্তায় বেড়িয়ে বেঁচে ঘরে ফিরতে চাই। 

    তাহলে, প্রতিদিন এই এতো যে, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এর কারণ কি? একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও চালকের বেপরোয়া মনোভাবই দায়ী। এ ছাড়া ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের পাশের বাজার, খানাখন্দ ও ত্রুটিপূর্ণ রাস্তাঘাট, ট্রাফিক আইন মেনে না চলা, লাইসেন্স বিহীন চালক ও চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবও সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি পথচারীদের উদাসীনতাকেও সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    গবেষণায় এই পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা কিছুটা কমেছে। তবে, বেপরোয় গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা কমছে না বরং বাড়ছে। এক্ষত্রে মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা হু-হু করে বেড়েই চলেছে। যদিও উন্নত বিশ্বের কোনো শহরেই রাস্তায় নির্ধারিত গতিসীমার বাইরে গাড়ি চালানো যায় না। অথচ আমাদের দেশের বিভিন্ন রাস্তায় আমরা তো প্রায়শই দেখি, রাস্তা একটু ফাঁকা পেলেই চালকদের মধ্যে গতির প্রতিযোগিতা চলে। চলে, কে কার আগে যাবে তার প্রতিযোগিতা। গতিসীমা অতিক্রম করলে উন্নত দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন ছুটে আসেন। চালককে জরিমানা করেন। আর আমাদের দেশে যত অনিয়ম তার সবটাই পরিবহন সেক্টরকে ঘিরেই চলে। প্রশিক্ষিত চালকের অভাব প্রকট। যত্রতত্র হেলপাররাও গাড়ি চালান। ফলে গাড়ি চাপায় এতো যে মানুষের মৃত্যু হয়, তবুও এর কোনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্রেরও এ নিয়ে কোনও হেলদোল নেই। 

    ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে অব্যাহত সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। শুধুমাত্র সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দেশ প্রতি বছর ২ থেকে ৩ শতাংশ জিডিপি হারাচ্ছে।’ তাতেই বা সরকারের কি আসে যায়!

    সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু আজকাল স্বাভাবিক ব্যাপার। মানুষের মৃত্যুকে মানুষই গুরুত্ব দেয় না। সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু যে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে তা কিন্তু নয়। পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকেই। আর তারা যদি কোনো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হন, তবে সেই পরিবারে নেমে আসে সীমাহীন অস্থিরতা। হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয় একটি পুরো পরিবার।


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ