পাউবো’র ১২৯টি গাছ রক্ষায় মাঠে নামছে পারিবেশবাদীরা

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুটি কলোনীর বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধশতাধিক বছর বয়সী ১২৯টি গাছ রক্ষায় মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। এরই মধ্যে দুটি কলোনীতে নিলামে বিক্রির জন্য চিহ্নিত করা গাছগুলো সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন পরিবেশবাদীরা। এমনকি গাছগুলো কাটার বিষয়ে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রীট করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এমনটাই জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক রফিকুল আলম।
তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি এবং পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) বরিশালের সমন্বয়ক লিংকন বাইন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাগরদী ওয়াপাদা কলোনী এবং চাঁদমারী বিআইপি কলোনী পরিদর্শন করেছি। সেখানে বিক্রির জন্য যেই গাছগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো দেখেছি। ক্ষতিগ্রস্থ বা কোনভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন গাছও নিলামে বিক্রির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কেন এই গাছগুলো নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং কোন ক্ষমতা বলে গাছ বিক্রির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, সে সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে চাওয়া হয়েছে। এগুলো দেয়ার জন্য রোববার সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আমাদের সময় দিয়েছেন। কাগজপত্র হাতে পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
অপরদিকে, সমাজ পরিবর্তনে সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্বস্থানে থাকা বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী অকারণে অর্ধ শতাধিক বছরের গাছগুলো কাটার উদ্যোগের বিষয়ে খোঁজ খবর নিবেন বলে জানিয়েছিলেন এ প্রতিবেদককে।
তবে এই ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও গাছ কাটা ঠেকাতে দৃশ্যমান কোন ভূমিকায় দেখা যায়নি তাকে। যদিও তিনি পুনরায় বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ (পওর) বিভাগের সাগরদী কলোনীর ৮৩টি এবং চাঁদমারী বিআইপি কলোনীর ৪৬টি মিলিয়ে মোট ১২৯টি বজন প্রজাতির গাছ নিলামে বিক্রির জন্য চলতি বছরের ২২ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিক্রির জন্য নিলামের আওতায় আনা গাছের মধ্যে রেইন্ট্রি, মেহগনি এবং কড়াই কাছের সংখ্যাই বেশি।
গাছগুলো বিক্রির জন্য সরকারিভাবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ লক্ষ টাকা। এর অনুকূলে নিলাম দরপত্রে অংশগ্রহণ করা চারটি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নগরীর সাগরদী এলাকার আরিফুর রহমান নামের একজন প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিবেচিত হয়েছে।
এদিকে, ‘নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা ও নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ্এরপর দুটি লটে ১২৯টি গাছ বিক্রি করা হবে।
নিলাম দরপত্রে এমনটি দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। ২-৩টি গাছ বন্যায় ভেঙে এবং হেলে পড়া ছাড়া নিলামে বিক্রির জন্য রং দিয়ে নম্বর লিখে চিহ্নিত করা গাছগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত। এমনকি গাছ কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমতি গ্রহণ করেনি পাউবো। তাই এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
সম্প্রতি এ নিয়ে দৈনিক মতবাদে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের বক্তব্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হোসাইন বলেন, ‘যেই গাছগুলো নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে সেগুলো ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ। ডালপালা ভেঙে গেছে। তাছাড়া যেসব গাছ নিলামের আওতায় আনা হয়েছে সেগুলো পুনবয়স্ক, এখন মরে যাচ্ছে। এ কারণে গাছগুলো নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।
আরজেএন