তিন জেলার এসপির হস্তক্ষেপে মুলাদী সীমান্তে হাজি ও আকন গ্রুপের দুই যুগের দ্বন্দ্বের অবসান

বরিশালের সীমান্তবর্তী মুলাদী উপজেলার বাটামারী ও সফিপুর ইউনিয়নে হাজি ও আকন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘ বছরের। এই বিরোধের জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে বছরের পর বছর হত্যা, ডাকাতি, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণের ঘটনা ছিল নিত্য দিনের ঘটনা।
দুটি ইউনিয়নের পাশেই মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার অবস্থান হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যেতে পারতো। এর ফলে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না অপরাধ। এ কারণে গত ২২ বছরে শুধু মাত্র দুটি ইউনিয়নের ৯৩৪টি মামলায় আসামি করা হয় প্রায় সাড়ে চার হাজার।
সবশেষ চলতি বছরের গত এপ্রিলে বাটামারা ও শফিপুরে দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথক দুটি হত্যাকা- ঘটে। এদের মধ্যে একজনের নাম হেলাল বেপারী এবং অপরজন আলমগীর কবিরাজ।
এই ঘটনার পর থেকেই দুই ইউনিয়নবাসীর মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করলেও বিরোধ মীমাংসায় এগিয়ে আসেনি কেউ।
তবে দীর্ঘ বছর পরে হলেও মুলাদীর দুটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় বরিশাল জেলা পুলিশ। তিন জেলা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় সম্প্রীতি সমাবেশের মাধ্যমে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি ঘটিয়েছেন তারা। এমনকি ইউনিয়নটিতে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির ভিত্তিপ্রস্ত স্থাপন করা হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৪টায় মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের জাগরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে যৌথভাবে সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে বরিশাল, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা পুলিশ।
সমাবেশে দুই পক্ষের মধ্যে ৫ জন করে স্টাম্পে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সেখানে দুই পক্ষের ১৫ জন করে ৩০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাদের উভয়কে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাতে হাত মিলিয়ে দেন।
এই সমাবেশের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশাবাদী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন- বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন- মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার মাহাবুবুল আলম।
অতিথিবৃন্দ বলেন, ‘বরিশাল, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। যার প্রমাণ স্বরূপ ২০০১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মুলাদী থানার বাটামারা ও সফিপুর ইউনিয়নে হত্যা, ডাকাতি, নারী ও শিশু, অপহরণসহ ৯৩৪টি মামলা দায়ের হয়। যেখানে ৪ হাজার ৪৩৯ জনকে আসামি করা হয়।
মুলাদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় ও মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্প্রীতির সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন- মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান তারিকুল হাসান খান মিঠু, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, সাতক্ষীরা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান হোসেন, শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদিউজ্জামান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাইনুল আহসান সবুজ, মুলাদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর হোসেন সুমন প্রমুখ।
এর আগে বিকাল ৩টার দিকে তিন জেলার সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বরিশাল, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের সীমান্ত বাটামারা ও সফিপুর ইউনিয়নে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বরিশালের পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম।
আরজেএন