বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম, আল্লাহ নতুন জীবন দিছে
বাসটি পুকুরে পড়ার সাথে সাথেই ভেতরে পানি ঢুকে তলিয়ে গেলো। অনেক চেষ্টা করেও যখন বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না তখন বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। আমিসহ বাসের মধ্যে পানিতে ডুবে থাকা মানুষগুলো হাত নাড়িয়ে বাইরে বের হওয়া চেষ্টা করছিলেন।
তখন হঠাৎ কেউ একজন বাইরে থেকে আমার হাত ধরে গাড়ির গ্লাসের ফাঁক দিয়ে টেনে বাইরে বের করলেন। নিশ্বাস ছেড়ে কাঁদতে কাঁদতে নতুন জীবন পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি।
কথাগুলো বলছিলেন, ঝালকাঠি ছত্রকান্দায় বাস দুর্ঘটনার পর জীবিত উদ্ধার হওয়া সাইফুল নামের যুবক। মঠবাড়িয়ার বাসিন্দা সাইফুল পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। বরিশালে স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন তিনি। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার স্মৃতি বলতে গিয়ে আতকে ওঠেন সাইফুল।
সাইফুল বলেন, ‘আমি বাসের গেটের পাশে সামনের দিকে বসা ছিলাম। বাসটি শুরু থেকেই খুব ধীর গতিতে চালাচ্ছিলেন চালক মোহন হাওলাদার। আর সুপারভাইজার এবং হেলপার কিছু দূর গিয়ে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠাতে থাকে। এ নিয়ে আমি এবং অন্য যাত্রীরা চালকের কথা কাটাকাটিও করেছি।
তিনি বলেন, ‘ধীর গতিতে বাস চালিয়ে যখন গন্তব্যে পৌঁছাবার সময় বেশিরভাগ শেষ করে ফেলেছেন তখন বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতে শুরু করেন চালক। পথিমধ্যে ছত্রকান্দা এলাকায় গতি না কমিয়ে বাস ঘুরাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে যায়।
তিনি বলেন, ‘আমার ৩০ বছর বয়সে এই প্রথম জীবনের বড় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এই অভিজ্ঞতার কথা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্মরণে থাকবে। বাড়িতে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং দেড় বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। হয়তো তাদের কারণেই আল্লাহ আমাকে নতুন জীবন দান করেছেন। দুর্ঘটনায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন আল্লাহ তাদের যেন জান্নাতবাসী করেন।
আরজেএন