দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত নথুল্লাবাদ

নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে সংঘর্ষ চলে দুপুর প্রায় ১টা পর্যন্ত। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
এ ঘটনার পর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া পরবর্তী যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় মহানগর শ্রমিক লীগের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আফতাব হোসেনকে বাদ দিয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে সকাল ১০টায় নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে নবনির্বাচিত মেয়র অনুসারী শ্রমিক নেতারা।
সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের আশ্বাসে তারা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়ে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মালিক সমিতি কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সেই মুহূর্তে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনসহ ৬ দফা দাবির সেøাগান দিয়ে বাস টার্মিনালে প্রবেশ করেন বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা কালাম হোসেন লিটন মোল্লা ও তার অনুসারীরা।
টার্মিনালের ভেতরে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা সাংবাদিকদের সামনে দাবি তুলে ধরতে গেলে বাধা দেয় বাস মালিক গ্রুপ ও মহানগর শ্রমিক লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি আফতাব এবং তার অনুসারীরা। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে।
এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে দুই গ্রুপকে টার্মিনালের বাইরে বের করে দেয়। এতে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে নথুল্লাবাদ সংলগ্ন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বাস আড়াআড়ি করে রেখে অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। তাদের অভিযোগ, শ্রমিক নেতা কালাম হোসেন লিটন মোল্লার ওপর হামলার পরে তাকে আটকে রাখা হয়েছে।
এদিকে, ‘শ্রমিকদের দুই দফায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধের কারণে সড়কের দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। পরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও লিটন মোল্লার হস্তক্ষেপে সড়ক থেকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে শ্রমিকদের নিয়ে টার্মিনালের মধ্যে অবস্থিত জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন কালাম হোসেন লিটন মোল্লা। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কার্যালয়টি তালাবদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনা কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় লিটন মোল্লার ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায় আফতাব হোসেনের অনুসারীরা। এসময় লিটনের অনুসারীরাও পাল্টা হামলা চালালে দ্বিতীয় দফায় তুমুল সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে আফতাব অনুসারী বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত এবং বেশ কয়েকটি পরিবহনের টিকিট কাউন্টার ও টার্মিনালে পার্কিং করা মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে লিটনের অনুসারীরা। তখন লাঠিচার্জ করে দুই গ্রুপকে ছাত্রভঙ্গ করে পুলিশ।
অন্যদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম ও বিসিসির নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত অনুসারী বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ঘটনাস্থলে গেলে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে পুলিশের সতর্কতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। দুপুর দেড়টার দিকে আফতাব হোসেনকে পুলিশি নিরাপত্তায় টার্মিনাল থেকে বের করে দেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে মহানগর শ্রমিক লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি ও জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আফতাব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের বিতর্কিতদের নিয়ে মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা ওই কমিটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ জানালে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে।
অপরদিকে, ‘শ্রমিক নেতা ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কালাম হোসেন লিটন মোল্লা বলেন, ‘শ্রমিক লীগের কমিটির বিষয় নিয়ে আমরা এখানে আসিনি। আমাদের শ্রমিকরা জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনসহ ছয় দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছিলাম। কিন্তু টার্মিনালের শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে দাঁড়াতেই আমাদের ওপর আফতাব ও তার লোকেরা অতর্কিতে হামলা করেছে। আমরা এই ঘটনার বিচারসহ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দাবি করছি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আলী আশ্রাফ ভূঁইয়া বলেন, ‘আধিপত্য নিয়ে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এর প্রতিবাদে কিছু সময় সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। তাছাড়া টার্মিনালের মধ্যে তারা সংঘর্ষে জাড়ালে পুলিশ উভয় পক্ষকে টার্মিনাল থেকে বের করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ বা মামলা করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বরিশাল মহানগর শ্রমিকলীগের ২৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র থেকে। কমিটি বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ অনুসারী পরিমল চন্দ্র দাস এবং মহানগর ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক রইজ আহমেদ মান্নাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
এই খবরে বৃহস্পতিবার রাতে নথুল্লাবাদ এবং রূপাতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে কমিটি থেকে বাদ পড়া সদ্য সাবেক সভাপতি আফতাব হোসেন।
আরজেএন