বরিশাল সড়ক পরিবহন, বাস, মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব সা. সম্পাদকের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হয়ে ফরিদ হোসেন বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ শাহাদাত হোসেন লিটন এ অভিযোগ তোলেন।
লিখিত বক্তব্য লিটন জানান, শ্রমিক কল্যাণ ফা-ের টাকা, দূরপাল্লার গাড়ির সার্ভিস চার্জের টাকা ও ইউনিয়নের স্টলের জামানতসহ বিভিন্ন খাতের বিপুল অঙ্কেও টাকা ফরিদ হোসেন আত্মসাৎ করেছেন। তাঁর এসব কর্মকা-ের কারণে গত ৫ জুলাই শ্রমিকরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে ৭ দিনের সময় দিয়ে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ১০ জুলাই ফরিদ হোসেনকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু নোটিশের কোন জবাব না দেয়ায় মঙ্গলবার জরুরি সভায় ফরিদ হোসেনকে আজীবন বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিটন আরো দাবি করেন, ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ফরিদ হোসেন। এরপর বিভিন্ন খাত থেকে তিনি শুরু করেন অবৈধ টাকা উপার্জন। তাই শ্রমিকদের দাবি সত্ত্বেও গত সাড়ে ৬ বছরেও ইউনিয়নের নির্বাচন হতে দেননি তিনি। সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের মৃত্যুর পর ইউনিয়নের প্রায় ৫ কোটি আত্মসাৎ করেন ফরিদ।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটন আরো অভিযোগ করেন, অবৈধ টাকা দিয়ে ফরিদ হোসেন ৫-৬টি বাড়ি ও আলফা (থ্রি-হুইলার) এবং লেগুনার গাড়ির মালিক হয়েছেন। তাঁর এই অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তর দাবি জানিয়ে গত ৭ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কবির হাওলাদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরেু আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম হোসেন ও প্রচার সম্পাদক ইউনুচ মিয়াসহ আরো অনেকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা সড়ক পরিবহনের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেন বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়। পরে আবারো নির্বাচন চেয়ে ২০২১ সালে শহিদুল আলম খান নামে এক শ্রমিক বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত আমিসহ কমিটির সকল সদস্যই অবৈধ। এ অবস্থায় জরুরি সভা ডেকে তারা ইউনিয়নের নামে আমাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেয়, তা বোধগম্য নয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে শ্রমিক ইউনিয়নের টাকা আতসাৎসহ এসব অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন এই শ্রমিক নেতা। বরং তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, শ্রমিক ইউনিয়নের হিসাব শাখারসহ মূল্যবান কাগজপত্র গোপনে সরিয়ে ফেলেছে শাহাদাত হোসেন লিটন। এ বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারি তুলে ধরা হবে বলেও জানিয়েছেন ফরিদ।
আরজেএন