উজিরপুরে শিক্ষিকার হামলায় শিক্ষার্থীর মা ছয়ঘন্টা জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে

উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নের কুড়লিয়া মুন্সীরতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবযোগদানকৃত সহকারী শিক্ষক রোজী আক্তারের হামলায় মুন্সিরতাল্লুক গ্রামের শিক্ষার্থীর মা রোকসানা বেগম (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছে। এ সময় রোকসানা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ৬ঘন্টা পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্ঞান ফিরে আসে। এই ঘটনায় এলাকাবাসী ঐ শিক্ষিকাকে ২ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।
স্থানীয় ও ভ‚ক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষিকা রোজী আক্তার ও শিক্ষার্থীর মা রোকসানা বেগমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রোজী আক্তার তাকে বেত ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে ফ্লোরে ফেলে দেয়। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শতশত এলাকাবাসী রোজী আক্তারকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরে পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিরু মল্লিক ও কামাল মাস্টারের মধ্যস্থতায় ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনমথো বেপারী জানান, শিক্ষিকা রোজী আক্তার ও কামাল মল্লিকের স্ত্রী শিক্ষার্থীর মা রোকসানা বেগমের সাথে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এতে রোকসানা বেগম অজ্ঞান হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা রোজী আক্তারকে অবরুদ্ধ করে। স্থানীয় শিক্ষকদের মধ্যস্থতায় পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয়।
বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হলে তিনি তদন্ত কমিটি করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন। আহত শিক্ষার্থীর মা রোকসানা বেগমকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছি।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হেমায়েত মল্লিক জানান, সহকারী শিক্ষিকা রোজী আক্তার বিদ্যালয়ের যোগদান করার পর থেকে নিয়ম কানুনের ধার ধরে না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ সহকর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি কোন দিন সময় মত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং বিদ্যালয় ছুটির আগেই চলে যান।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা মুঠোফোনে ফোন জানান, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ওই মহিলার সাথে হাতাহাতি হয়েছে সত্য, বেশি ভেক ধরেছে। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা শিল্পী বেগম জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচকেআর