৬০ দশকের জরাজীর্ণ ভবনে সরকারি আলেকান্দা কলেজ পাঠদানের সময় পলেস্তরা খড়ে পড়লো শিক্ষার্থীদের গায়ে

দীর্ঘ বছরের পুরানো বরিশাল সরকারি আলেকান্দা কলেজের একমাত্র একাডেমিক ভবনটি। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ এবং চেয়ার-টেবিলগুলো এখন অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। তার ওপর প্রায় সময় শ্রেণিকক্ষের পলেস্তরা খড়ে পড়ছে শিক্ষার্থীদের গায়ে।
সব শেষে রোববার সকালেও ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষে পলেস্তরা খসে পড়েছে ছাত্রীদের গায়ে। এতে আহত সামান্য আহত হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরকারি আলেকান্দা কলেজের তৃতীয় তলার ৩০১ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
তাই ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা বরিশাল সরকারি আলেকান্দা কলেজের অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি জরুরি উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সোহরাব হোসাইনসহ শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বরিশাল সরকারি আলেকান্দা কলেজে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তৃতীয় তলার ৩০১ নম্বর শ্রেণিকক্ষে একাদশ শ্রেণির গণিত পাঠদান শুরু করেন শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ।
ক্লাস চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের সামনের সারিতে বসা শিক্ষার্থীদের গায়ে ওপর পলেস্তরা খসে পড়ে। এতে দুই ছাত্রী আহত হয়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকরা দ্রুত ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ৩০১ নম্বর কক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের অন্য কক্ষে নিয়ে পাঠদান শুরু করেন।
সরকারি আলেকান্দা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ক্লাস চলাকালে সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করে ওপর থেকে পলেস্তরা খড়ে এক ছাত্রীর কাধে। এসময় পাশে থাকা অপর এক ছাত্রীর চোখে বালু কনা গিয়ে সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
আমরা ঘটনা জেনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে শিক্ষার্থীদের অন্য ক্লাসে নিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছি। তবে এ দফায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষার্থীরা অল্পতে রক্ষা পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেরেজমিনে দেখা গেছে, আগেও বেশ কয়েকবার কলেজটির বিভিন্ন কক্ষের পলেস্তরা খসে পড়েছে। বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে ভিমগুলোতে। এরই মধ্যে ছাদের বিশাল অংশজুড়ে পলেস্তরা খসে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে ল্যাবরেটরির কার্যক্রম। এখন যেকোন সময় বড় দুর্ঘটনার আতঙ্কে আছেন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।
কলেজের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, ‘ইতিপূর্বে শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর থেকে ভবনটি মেরামত এবং রং-চুনের কাজ করা হয়। নির্মাণ করা হয় কলেজের কক্ষগুলোর দরজা-জানালা। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নামমাত্র কাজ করে হাতিয়ে নিয়েছে ঠিকাদারী কাজের টাকা। এর ফলে কিছুদিন না যেতেই আবার অনেকটাই জরাজীর্ণে পরিণত হয়েছে সরকারি আলেকান্দা কলেজ ভবনটি।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ‘বরিশাল সরকারি আলেকান্দা কলেজটি বর্তমানে যেই ভবনে রয়েছে সেটি ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠালগ্নে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধিনস্ত প্রতিষ্ঠান ছিল এটি।
পরবর্তী ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে শুরু হয় কমার্শিয়াল কলেজের কার্যক্রম। সেখানে দীর্ঘ বছর ক্লাস কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরপর ২০১৬ সালে নাম পরিবর্তনের সাথে সাথে জেনারেল কলেজ হিসেবে পাঠদান শুরু হয়। নামকরণ করা হয় সরকারি আলেকান্দা কলেজ।
তবে তিন দফায় শিক্ষার ধরন পাল্টালেও হয়নি অবকাঠামোগত পরিবর্তন। মাঝে মধ্যে সংস্কার করা হলেও ভবন পুরানো হওয়ায় তা কাজে আসছে না। তাই প্রায় ৫৯ বছরের পুরানো ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। তাই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুরানো ভবনটি ভেঙে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি এখন সকলের।
আরজেএন