বরিশালে বায়ু ও শব্দ দূষণের মাত্রা জানেনা কেউ কবে জরিপ হয়েছে বলতে পারে না পরিবেশ অধিদপ্তরও

নানা কারণে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে বিভাগীয় শহর বরিশাল। তবে এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই পরিবেশ দপ্তরের। এমনকি বর্তমানে বরিশালে বায়ু, পরিবেশ এবং শব্দ দূষণের মাত্রা কত, তাও জানেন না দপ্তরটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ নিয়ে সবশেষ কবে জরিপ হয়েছে তাও বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে আছে শুধুমাত্র ইটভাটার অনুমোদন, পরিবেশের ছাড়পত্র প্রদান আর গণশুনানীতে। এর ফলে পরিবেশগত হালনাগাদ তথ্য থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন বরিশালের মানুষ।
যদিও এর পেছনে জনবল সংকটের দোহাই দিচ্ছেন পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় জনস্বার্থের কাজগুলো করতে পারছেন না তারা। তবে জনবল সংকটের অজুহাত দিয়ে পরিবেশ দপ্তরের কর্মকর্তাদের জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে উত্তরাঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু। এতে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বাড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি।
যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া এবং ধুলা-বালুতে দূষিত হচ্ছে বরিশালের বাতাস। বাড়ছে শব্দ দূষণের মাত্রাও। তবে বাড়েনি পরিবেশ অধিপ্তরের তৎপরতা।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ‘বিভাগের প্রতিটি জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি করে কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া বরিশালে রয়েছে বিভাগীয় কার্যালয়। স্ব স্ব জেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মূল দায়িত্বই এই দপ্তরের ওপর। তবে তুলনামূলক সেই কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না দপ্তর সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, ‘মূলতঃ অবৈধ ইটভাটা, করাত কলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, কোন হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশের ছাড়পত্র প্রদান, পরিবেশের মান নির্ণয় ও ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীর পানি মান নির্ণয়, শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ এবং পরিবেশ দূষণের মাত্রা পরিমাপ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষণ জরিপ, ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-পৃষ্ঠের পরিবেশ পরিস্থিতি নির্ণয় করা, পরিবেশ এবং শব্দ দূষণের অভিযোগ গ্রহণ এবং ব্যবস্থা গ্রহণসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
তবে এর মধ্যে ইটভাটা, পরিবেশের ছাড়পত্র আর বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষণ জরিপ ছাড়া অন্য কোন কার্যক্রম তেমন দেখা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, যেসব কার্যক্রমে অবৈধ লেনদেনের সুযোগ রয়েছে, সেই কার্যক্রমের দিকেই দপ্তরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি বেশি। এমনকি অবৈধ কর্মকা-ের বৈধতাও অর্থের বিনিময়ে দেয়ার অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। যার বাস্তবতা বিভাগজুড়ে অবৈধভাবে চলতে থাকা চার শতাধিক অবৈধ ইটভাটা ও করাত কলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘বরিশালে বায়ু দূষণের সহনীয় মাত্রা ২০০ পিপিএম। গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা ছিলো ৪৬৬ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)। পরবর্তী ছয় মাসের মাথায় সেই মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৭৮ পিপিএম-এ।
অপরদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বরিশাল নগরীতে শব্দ দূষণের মাত্রার চেয়ে ২৫-৩০ ডেসিবেল বেশি শব্দ সৃষ্টি হয়। ওইসময় নগরীর আমতলার মোড়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং নথুল্লাবাদ ও কাশিপুর এলাকায় হাইড্রোলিক হর্নের শব্দ ১১০ ডেসিবেলে পৌঁছায়।
এদিকে, ‘বায়ু এবং পরিবেশ দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে যোগাযোগ করা হয় পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে। কিন্তু সেখান থেকে এ সংক্রান্ত হালনাগাদ কোন তথ্য জানাতে পারেননি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন বা দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। এমনকি সবশেষ কবে এ বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ-পরিক্ষণ করেছেন সেই তথ্যও নির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি তারা। তাছাড়া পরিবেশ সংক্রান্ত কোন তথ্যও জনগণকে জানতে দিচ্ছে না দপ্তরটি।
এর কারণ জানতে চাইলে সংস্থাটির বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষার ল্যাব আছে। তবে জনবল সংকট প্রচুর। এ কারণে ইচ্ছা থাকলেও নিয়মিত পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারছি না। তাছাড়া আমাদের কার্যক্রম জনগণকে জানাতে হবে এমন কোন নির্দেশনা আমাদের নেই। কেউ জানতে চাইলে তিনি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে সুনির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে তথ্য জানতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘এসমস্ত কার্যক্রমের জন্য অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী আমাদের এই দপ্তরে ৫টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে আমি এবং একজন নমুনা সংগ্রহকারী রয়েছে। বাকি
আরজেএন