২৩ জুলাই থেকে উঠছে সাগরে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা

ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম স্থানে বাংলাদেশ। আর দেশে ইলিশ উৎপাদনের শীর্ষে দক্ষিণাঞ্চল। বর্তমানে এই অঞ্চলে ইলিশ উৎপাদনের হার ৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে আহরণকৃত ইলিশের অর্ধেকের বেশিই উৎপাদন হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র এবং নদ-নদীতে।
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল ইলিশ ভবনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক যুগ অর্থাৎ ২০১০-১১ থেকে ২০২১-২২ অর্থ বছর পর্যন্ত এ বিভাগে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৬১৩ মেট্রিক টন।
এছাড়া চলতি বছরে এই অঞ্চলে ইশিল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ছাড়াবে বলে মতবাদকে জানিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
তিনি জানান, ‘মা ইলিশ এবং জাটকা সংরক্ষণে সরকারের অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গোটা দেশেই ইলিশের উৎপাদন বাড়িয়েছে। এর এতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে এই অঞ্চলের জেলেরা। তাদের চেষ্টায়ই এবার ইলিশের উৎপাদন আগের সকল রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে আশাবাদী এই কর্মকর্তা।
জানা গেছে, ‘২০০২-০৩ অর্থ বছর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে দেশের নদ-নদীতে ইলিশের উৎপাদন কমতে থাকে। এর ফলে জাতীয় মাছ ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাটকা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০০৩-০৪ অর্থ বছর থেকে শুরু হয় জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। এরপর ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয় মা ইলিশ রক্ষার অভিযান। এর পর থেকেই সাগর এবং নদ-নদীতে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে ইলিশ সম্পদ।
বরিশাল মৎস্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে গত ২০১০-১১ অর্থ বছরে মোট ইলিশ উৎপাদন ছিলো ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৬২ মেট্রিক টন। যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ (নদ-নদীতে) উৎপাদন ৬১ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন এবং সামুদ্রিক ইৎপাদন ছিলো ১ লাখ ৯ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন।
পরবর্তী ২০২০-২১ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩০১ মেট্রিক টন। যার মধ্যে নদ-নদীর ইলিশ ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৯২ এবং সমুদ্রে উৎপাদন দাঁড়ায় ২ লাখ ৪ হাজার ৯ মেট্রিক টন।
সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে সমুদ্র এবং নদ-নদীতে ইলিশের মোট উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন। সে হিসেবে দেশে উৎপাদিত ইলিশের ৬৬ শতাংশ ইলিশের যোগান হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র এবং নদ-নদী থেকে। আর চলতি অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন ৩ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ছাড়াবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার মধ্যে ইলিশ উৎপাদন এবং আহরণের শীর্ষে দ্বীপ জেলা ভোলা এবং উপকূলীয় জেলা বরগুনা। এর মধ্যে গত অর্থ বছরে ভোলা জেলায় প্রায় দুই লাখ এবং বরগুনা জেলায় ইলিশ আহরণ হয় প্রায় এক লক্ষ মেট্রিক টন। এছাড়া বরিশাল জেলার নদ-নদীতে আহরণ হয়েছে ৪০ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন ইলিশ।
বরিশাল জেলায় কর্মরত দেশের একমাত্র ইলিশ বিষয়ক মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস মতবাদকে জানিয়েছেন, ‘ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধিতে জাটকা সংরক্ষণ এবং মা ইলিশ রক্ষার অভিযান বড় ভূমিকা রাখছে। এই দুটি কর্মসূচি শুরুর পর থেকেই দেশের নদ-নদীতে ইলিশ সম্পদ বাড়তে থাকে।
তিনি বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় প্রতি বছর অক্টোবর মাসে ২২ দিন দেশের সকল নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধিতে পহেলা নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করে মৎস্য বিভাগ। এসময় মৎস্য শিকারে সাড়ে ছয় সেন্টিমিটার ফাঁদের জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। সরকারের এই কর্মসূচি বাস্তবায়ণে মৎস্য বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ধারাবাহিক অভিযান চলে।
আরজেএন