দক্ষিণাঞ্চলেও প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশিরভাগ রোগী বরগুনা ও পিরোজপুর জেলার

বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ক্রমশ বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি বছরের গত ৯ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন ৯৯৬ জন। এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
এদিকে, বিভাগের ৬টি জেলার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর এবং বরগুনা জেলা। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৯৮ জনের মধ্যে ২০ জন এই দুই জেলার বাসিন্দা।
এছাড়া বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলো ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৪০ জন রোগীর মধ্যেও বেশিরভাগের বাড়িই পিরোজপুর এবং বরগুনা জেলায়। সে হিসেবে এ দুটি জেলাকে ডেঙ্গু প্রবণ এলাকা বলে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও এখন পর্যন্ত যারা আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আগে ঢাকায় আসা যাওয়া করেছেন বলে জানা গেছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ‘চলতি বছরের গত জুনের শেষ দিন থেকেই বরিশাল অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বাড়তে শুরু করে।
বিশেষ করে গত ঈদুল আযহার পর থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছে বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে।
তবে বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালগুলোর থেকে বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ‘বিভাগে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়া ৯৯৬ জনের মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে ৩৭৪ জন এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন ১৯৯ জন।
এছাড়া বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৫২ জন রোগী। তাছাড়া ভোলা জেলায় ৭৭ জন, পিরোজপুরে ৯৬, বরগুনায় ৯১ এবং ঝালকাঠিতে ৭ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বরগুনা এবং পিরোজপুর জেলা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশি আসছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে বরিশাল জেলা।
স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানিয়েছেন, গত ঈদ উল আযহা উদযাপনের জন্য ঢাকা থেকে অসংখ্য মানুষ দক্ষিণাঞ্চলে এসেছে। এখন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই ঢাকায় আসা যাওয়া করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘মূলতঃ এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। তবে বরিশাল বিভাগের কোথাও ডেঙ্গু মশার উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে বলে জানান স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।
আরজেএন