নগরীতে কোরবানি পশু জবাইয়ের ১৪২টি স্থান নির্ধারণ

ঈদ উল আযহায় বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ১৪২টি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। এছাড়া ঈদের দিন ৬০-৮০ টন বর্জ্য অপসারণেরও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এসব কাজে ১০০০ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। পশুর বর্জ্য দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে নগরী থেকে পরিষ্কারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দপুরে সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ডা. রবিউল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বর্জ্য রাখার জন্য ৩০টি ওয়ার্ডে সাড়ে ৪ হাজার বস্তা ও ৯০০ কেজি ব্লিচিং পাউডার পাঠিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সচিবরা তদারকি করবেন।
সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, নাগরিকরা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ে তেমন আগ্রহ দেখান না। তাঁরা বাসাবাড়ির সামনে কিংবা সড়কের ওপর পশু জবাই করেন। দুই বছর ধরে নগরীর নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করতে উদ্বুদ্ধ করা হলেও গত বছর মাত্র ২০ শতাংশ পশু করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে জবাই করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করতে না পারলে বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে অবগত করা হলে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সেখানে গিয়ে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করেন বলে জানিয়েছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা।
তবে স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন স্থান নির্ধারণ করে দিলেও পশু জবাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে না। এ কারণেই বেশির ভাগ লোক বাড়ির পাশে কিংবা আঙিনায় পশু জবাই করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে স্থান নির্বাচন করে দিলেও সেখানে কোনো সুযোগ-সুবিধা থাকে না। পানি সমস্যা ও পরিবেশগত দিক ভালো না হওয়ায় এসব স্থানে যেতে আগ্রহ দেখান না তাঁরা।
নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, করপোরেশনের এই উদ্যোগ খুবই ভালো। কিন্তু নাগরিকেরা বাড়ির আঙিনা বা সড়কের পাশে পশু জবাই করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। বাড়তি খরচ এবং সুবিধা না থাকায় তাঁরা দূরে যেতে চান না। এ পরিস্থিতি থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। তখন নাগরিকেরা আস্তে আস্তে এগিয়ে আসবেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক হোসেন বলেন, কোরবানির পশু যত্রতত্র জবাই হলে পুরো নগরীর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। আমরা চাই সবাই নির্ধারিত স্থানেই পশু জবাই করবেন।
আরজেএন