আ’লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আজ নগরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

আজ ২৪ জুন বিকেলে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশ করবে যুবদল, স্বেচ্ছা সেবক দল ও ছাত্রদল। একই সময় নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এবং শহীদ মিনার চত্বরে পৃথক ভাবে শান্তি সমাবেশ করবে জেলা ও মহানগর যুবলীগ।
স্বল্প দূরত্বে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে বরিশালে নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা।
যদিও দুই দলের পক্ষ থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার কথা বলেছেন। এমনকি যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আলী আশরাফ ভূঁইয়া। তিনি জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করছি কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটবে না।
জানা গেছে, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বরিশাল বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশ করবে বিএনপি। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদল এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এরই মধ্যে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানের একাংশে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের ব্যানারে ছেয়ে গেছে সমাবেশস্থল।
বিকাল ৩টায় শুরু হবে এই সমাবেশ। সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন এই সমাবেশে।
অপরদিকে, ‘একই সময় নগরীতে পৃথক দুটি শান্তি সমাবেশ করবে যুবলীগ। এর মধ্যে নগরীর সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে মঞ্চ করে ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে শান্তি সমাবেশ করবে জেলা যুবলীগ। এছাড়া সদর রোডে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শান্তি সমাবেশ করবে মহানগর যুবলীগ।
শান্তি সমাবেশে কেন্দ্রীয় যুবলীগের বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন শান্তি সমাবেশে।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, আগেও বরিশালে আওয়ামী লীগ-বিএনপি একই সময় কর্মসূচি পালন করেছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। আমরা শান্তি সমাবেশ করবো। আশা করছি শান্তিপূর্ণ নগরীতে কোন প্রকার অশান্তি ঘটবে না।
অপরদিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন বলেছেন, ‘বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশের সময় অনেক আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ হঠাৎ করেই একটি দল একই সময় পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। তাই শান্তিপূর্ণভাবেই তরুণরা তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানাবে সমাবেশের মাধ্যমে।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আলী আশরাফ ভূঁইয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক আছে। তার পরেও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই নগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে এবং দুই দলের সভাস্থল ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আশা করছি কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটবে না।
আরজেএন